প্রথমবারের মতো এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে উজবেকিস্তান। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাংলাদেশ দল তাসখন্দের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও বিমানবন্দর থেকে ফিরতে হয়েছে দেশের এক নম্বর র্যাঙ্কিংধারী পুরুষ খেলোয়াড় মুহতাসিন আহমেদ হৃদয়কে। ভিসার অনুমোদন ও বার কোড থাকার পরও কাগজপত্রে একটি কালো দাগের কারণে তাকে বোর্ডিং কার্ড দেয়নি এয়ার অ্যারাবিয়া। হৃদয়ের অনুপস্থিতিতে পুরুষ দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংকটে পড়েছে অন্য ইভেন্টগুলোও। শনিবার রাতে বাংলাদেশ দলের তিন নারী খেলোয়াড়, দুই পুরুষ খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তারা তাসখন্দের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তবে একই ফ্লাইটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত যেতে পারেননি হৃদয়।
তার দাবি, প্রথমে অন্যদের সঙ্গে তাকেও বোর্ডিং কার্ড দেয়া হয়েছিল। পরে ভিসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় উজবেকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নথিতে তার নামের পাশে কালো দাগ দেখতে পেয়ে বোর্ডিং কার্ড ফিরিয়ে নেয় বিমান সংস্থাটি। হৃদয় বলেন, ‘অন্য সবার সঙ্গে আমারও বোর্ডিং কার্ড দিয়েছিল। পরবর্তীতে ভিসার কাগজপত্র চেক করতে গিয়ে দেখে উজবেকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কাগজে আমার নামের পাশে কালো দাগ। এজন্য তারা পরবর্তীতে আমার কার্ড ফেরত দেয়। ফেডারেশন থেকে উজবেকিস্তানে যোগাযোগের পরও আমি যেতে পারিনি। এই টুর্নামেন্টের জন্য অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এ রকম পরিস্থিতিতে পড়ে খুব খারাপ লাগছে।’ বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক
সাইদুল হক সাদী জানিয়েছেন, বিষয়টি সমাধানে উজবেকিস্তানের আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাজ হয়নি। তার ভাষ্য, হৃদয়ের ভিসা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে আয়োজকরা এয়ার এরাবিয়াকে ই-মেইলও পাঠিয়েছিল।
তারপরও তাকে বোর্ডিং কার্ড দেয়া হয়নি। সাদী বলেন, ‘আমাদের কাছে কাগজ আসার পরই উজবেকিস্তানে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে কোনো সমস্যা হবে না। এয়ারপোর্টে যখন এটি সমস্যা হয়েছে, তখন আমরা উজবেকিস্তানে যোগাযোগ করেছি। আয়োজকরা এয়ার এরাবিয়াকে ই-মেইল করেছে যে তার ভিসা রয়েছে এবং সে উজবেকিস্তান পৌঁছালে প্রবেশ করতে পারবে। এরপরও তাকে
এয়ারলাইন্স বোর্ডিং পাস দেয়নি। আয়োজকরা এ নিয়ে তাদের মন্ত্রণালয়েও কথা বলবে।’ তবে সময়ের স্বল্পতায় হৃদয়ের টুর্নামেন্টে যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। হৃদয় যেতে না পারায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা পুরুষ দলগত ইভেন্টে। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ইভেন্টে অংশ নিতে কমপক্ষে তিনজন খেলোয়াড় প্রয়োজন। হৃদয় না থাকায় রামহিম লিয়ান বম ও জাভেদ আহমেদকে নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে দল গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফেডারেশনের চতুর্থ র্যাঙ্কিংধারী ইমনের ভিসা থাকলেও তার নাম নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ আছে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। হৃদয়ের অনুপস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে মিশ্র দ্বৈত ও পুরুষ দ্বৈত ইভেন্টেও। মিশ্র দ্বৈতে মৌয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধার কথা ছিল হৃদয়ের। অন্যদিকে পুরুষ দ্বৈতে তার সঙ্গী ছিলেন জাভেদ। এখন তাদের বিকল্প সঙ্গী নির্ধারণ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একটি দেশ দুটি মিশ্র দ্বৈত ইভেন্টে অংশ নিতে পারে না বলেও বিকল্প জুটি গঠনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। হৃদয় বলেন, ‘আমার নামে এন্ট্রি রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফিকশ্চার হয়ে যাওয়ার কথা। ফিকশ্চার হলে তো আর পরিবর্তন সম্ভব নয়, কারণ এশিয়ান টিটি চ্যাম্পিয়নশিপ অনেক বড় মাপের টুর্নামেন্ট। আমার সিদ্ধান্ত যদি আসে আর ফেডারেশন পাঠায়, তখন হয়তো সিঙ্গেল খেলার সম্ভাবনা থাকবে।’
