জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) প্রথম দুই রাউন্ডে দাপট ছিল ব্যাটারদের। তৃতীয় রাউন্ডের শুরুতে এসে পাল্টে গেলো দৃশ্যপট। প্রথম দিনে রাজত্ব করলেন বোলাররা। চার ম্যাচে পড়লো ৪০ উইকেট।
রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে গতকাল টস জিতে ব্যাট করতে নেমে স্পিনার সানজামুল ইসলামের তোপে পড়ে ৬৮.১ ওভারে ২২৯ রানে অলআউট হয় বরিশাল। জবাবে দিন শেষে ১ উইকেটে ২৪ রান তুলেছে রাজশাহী। ৬ রানেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। রুয়েল মিয়ার বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার সাব্বির হোসেন (৫)। দিন শেষে ২৮ বলে ৬ রানে অপরাজিত হাবিবুর রহমান সোহান। নাঈম আহমেদ অপরাজিত ১৩ রানে, ১৮ বলের ইনিংসে আছে ৩টি চার। দিন শেষে ১০ ওভারে ২৪ রান নিয়ে ২০৫ রানে পিছিয়ে রাজশাহী। এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নামা বরিশাল ৫৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে । পরে ৭৭ রানে চতুর্থ ও ১২১ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় তারা। জাওয়াদ আবরার ৪২ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪০ রান করে মেহেরবের বলে আউট হন। বরিশালের সর্বোচ্চ রান মো. আবদুল্লাহর। ৮৩ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করে সানজামুল ইসলামের বলে ক্যাচ দেন তিনি। লোয়ার অর্ডারে কামরুল ইসলাম ৩৬ ও শহিদুল ইসলাম ৩২ রান করেন। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল সানজামুল ইসলাম। ১১.১ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তিনি নেন ৪ উইকেট, যার ৫টি ছিল মেডেন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭১ ওভারে ২০১ রানে অলআউট খুলনা। জবাবে দিন শেষে ১৭ ওভারে ৩ উইকেটে ৭০ রান তুলেছে চট্টগ্রাম। খুলনার শুরুটা ভালো হয়নি। ২৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় দলটি। ১৩.৫ ওভারে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন (৯) ফিরলে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৫৯। আজিজুল হাকিম তামিম ৭৪ বলে ৪২ রানের ইনিংস খেলে দলকে কিছুটা টেনে তোলেন। দলীয় ৭৯ রানে তিনি রানআউটের শিকার হন। আফিফ হোসেন ধ্রুব ৪৫ বলে ১৮ রান করে ফেরেন। এরপর একে একে আউট হন সামিউন বাসির রাতুল ও মেহেদী হাসান। ১২৭ রানে ৭ উইকেট হারায় খুলনা। উইকেটরক্ষক ইমরানুজ্জামান একপ্রান্ত আঁকড়ে থাকেন। ১৪৩ বলে ১০ চারে ইনিংসের সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৪ রান করেন তিনি। শেষ ব্যাটার সফর আলী শূন্য রানে বোল্ড হলে ২০১ রানে থামে খুলনার ইনিংস। চট্টগ্রামের পক্ষে আহমেদ শরীফ ৯ ওভারে ৪০ রানে ৩ উইকেট নেন। জবাবে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৩৮ রান। ১০.৩ ওভারে ১২ রান করে সাদিকুর মৃত্যুঞ্জয়ের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে জুটি। জয়ও (২৫) মৃত্যুঞ্জয়ের শিকার। মেহেদী হাসানের বলে ইয়াসির আলী (২) আউট হলে ৬১ রানে ৩ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। দিন শেষে ১৫ বলে ৪ চারে ২০ রানে অপরাজিত শাহাদাত হোসেন দীপু। অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর অপরাজিত ৮ রানে। খুলনার বোলারদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ৫ ওভারে ৩০ রানে নেন ২ উইকেট।
১৭৯ রানে অলআউট সিলেট
চট্টগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মেহেদি হাসান ও স্বাধীন ইসলামের দাপুটে বোলিংয়ে সিলেটকে ১৭৯ রানে অলআউট করে দেয় রংপুর। জবাব দিতে নেমে প্রথম দিন শেষে ১৩ ওভারে ১ উইকেটে ৩২ রান তুলে মাঠ ছাড়ে রংপুর।
টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেটের অধিনায়ক জাকির হাসান। তবে রংপুরের বোলারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সিলেট। মেহেদী হাসানের ঘূর্ণিতে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করা অধিনায়ক জাকির হাসান রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে সিলেট আর বড় পুঁজি গড়তে পারেনি। অমিত হাসান ১৬ ও জাকের আলী ১৭ রান করেন। শেষ দিকে পেসার খালেদ আহমেদের ৫০ বলে ২৬ ও নাসুম আহমেদের ২২ রানে ভর করে শেষ পর্যন্ত ১৭৯ রান তুলতে সক্ষম হয় সিলেট। রংপুরের হয়ে মেহেদী হাসান ২৯ রানে ৩টি এবং স্বাধীন ইসলাম ৫২ রানে ৩টি উইকেট নেন। জবাবে আনিক সরকার সেতুকে (৩) হারায় রংপুর। তবে দিন শেষে আর কোনো বিপদ হতে দেননি মিম মোসাদ্দেক ও ইকবাল হোসেন। মিম ১৫ ও ইকবাল ১৪ রানে অপরাজিত আছেন। প্রথম দিন শেষে সিলেট থেকে এখনও ১৪৭ রানে পিছিয়ে আছে রংপুর বিভাগ।
মাহফিজুলের সেঞ্চুরিতে ভালো শুরু ময়মনসিংহের
কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম একাডেমি মাঠে ঢাকার বিপক্ষে ওপেনার মাহফিজুল ইসলামের অপরাজিত শতকে প্রথম দিনটি নিজেদের করে নেয় ময়মনসিংহ। প্রথম দিন শেষে ৮৬ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৬ রান তুলেছে তারা। । ২৩৭ বল খেলে অপরাজিত ১১৬ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস উপহার দেন মাহফিজুল ইসলাম। যেখানে ছিল ৯টি চারের মার। তাকে দারুণ সঙ্গ দেয়া রিজান হোসেন ৯১ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত আছেন। এছাড়া দলের হয়ে খালিদ হাসান ২৪, আল-আমিন ২১ ও আব্দুল মজিদ ১৮ রান করেন। ঢাকার আমিনুল ইসলাম ২টি এবং সুমন খান ও আরিফ আহমেদ ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
