ব্যাটিংয়ে বিপদ দেখছেন তাসকিন

ব্যাটিংয়ে বিপদ দেখছেন তাসকিন

ফন্ট সাইজ:

আবুধাবিতে বল হাতে তিন উইকেট আর ব্যাট করতে নেমে ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। অন্যদিকে দলের টপ ও মিডল অর্ডারের পাঁচ ব্যাটার তাসকিনের রানের সংখ্যাটাও স্পর্শ করতে পারেননি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে জিম্বাবুয়ের ২৭১ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দল হেরেছে ৯৯ রানে। দলের এই বোলার নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ম্যাচ শেষে। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিংয়ের সমস্যা দীর্ঘদিনের। ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে তার প্রমাণ মিললো আরও একবার। নিজেদের এমন বাজে ব্যাটিং নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘যেমন পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি। একটু এদিক-সেদিক হলেই পানিশ হতে হচ্ছিল। ২৭২ অবশ্যই চেজেবল ছিল। এই কন্ডিশনে চেজ করা দরকার ছিল, উচিত ছিল। আমরা ভালো খেলিনি। একটা পার্টনারশিপও করতে পারিনি। একটা পার্টনারশিপ হলেও ম্যাচ বের হয়ে যেতো।

ব্যাটিংয়ে নিয়মিত ভুল হচ্ছে। বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা তাও কিছুটা ভালো হয়েছে। এই ম্যাচ ব্যাটারদের জেতানো উচিত ছিল বলে আমি মনে করি।’ ম্যাচ শেষে তাসকিনের কন্ঠে চিন্তার যে সুর তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেতের মতোই। সম্প্রতি দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনও জানিয়েছেন দলের এমন নিন্মমুখি ব্যাটিং পারফরম্যান্স আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে চিন্তার কারণ হবে। এই আসরে ফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে আফগানিস্তানের দিকে। পরের ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে টাইগারদের জয়ের বিকল্প নেই। আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ে ব্যাট করতে নামলে তাসকিন শুরুতে উইকেট এনে দেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা পিচের ফায়দা নেন। তারা পার্টনারশিপ গড়ে রান বাড়ান। তাসকিন বলেন, ‘ভালো বল করা সত্ত্বেও বাজে বলগুলা পানিশ করেছে, ভালো বলগুলা খুব দারুণ ভাবে হ্যান্ডেল করেছে।’ প্রতিপক্ষ চাপ সামলে বোর্ডে বড় রান জমা করে। বাংলাদেশের ইনিংসে এর ছাপ দেখা যায়নি। ব্যাটাররা পার্টনারশিপ গড়তে পারেননি। ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় দল। তাসকিন জানান, পিচে রান করার সুযোগ থাকলেও ব্যাটাররা কাজে লাগাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এই পিচটা একচুয়ালি রান হওয়ার মতোই পার্টনারশিপ চাইলেই করা যেতে পারতো, এবং ওরা (জিম্বাবুয়ে) সেটা করেও দেখিয়েছে। কিন্তু আমরা পারিনি।’ ব্যাটিং ব্যর্থতার দলে লিটন দাস ও মেহেদী মিরাজের অভাব বোধ করেন তাসকিন।

তিনি বলেন, ‘নো ডাউট লিটন ওয়ান অফ দ্যা বেস্ট ব্যাটসম্যান আমাদের টিমের।’ সামনের চ্যালেঞ্জের কথা ভেবে তাসকিন দলীয় পারফরম্যান্সেরও উন্নতি চান। দলের এই সিনিয়র ক্রিকেটার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সের প্রতি বেশি জোর দেন। বিশেষ করে ক্রিকেটে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সাফল্যই তার লক্ষ্য থাকে বলেও জানান। এছাড়াও তার মতে বোলাররা উন্নতি করলেও ব্যাটারদের ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। দলের সবাই মিলে কাজ করলে সমস্যা কাটানো যায় বলেও তার বিশ্বাস। তাসকিন বলেন, ‘একজনের এক দুই দুই একটা ইন্ডিভিজুয়াল সাকসেস আসলে কাউন্টেডও হয় না যদি সেই ম্যাচ জিততে না পারি।’ দল হারলে সমালোচনা বাড়ে। ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলারদেরও দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে। তার মতে ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে পরাজয়ে দলের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারে। তাসকিন জানান, ভুল শুধরে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা অনেক হার্ড ওয়ার্ক করেছে এবং আশা করছি তারা স্মার্টলি তাদের ভুলগুলা শুধরায়ে সামনে কামব্যাক করবে।’

অন্যদিকে হারের পর দেশি কোচদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তাসকিন এই বিষয়ে বলেন, ‘দেশি কোচরাও যথেষ্ট ক্যাপাবল আমাদের টিমে যারা আছেন। দল হারলে দেশি কোচদের দোষ দেয়া হয়। আবার জিতলে প্রশংসার বেলায় তাদের নাম আসে না।’ তাসকিন মনে করেন দিন শেষে খেলার ফলই মুখ্য। তিনি বলেন, ‘ইটস অল অ্যাবাউট রেজাল্ট, জিতলেই সব ঠিক।’ কোচদের চেয়ে মাঠে পারফর্ম করাই খেলোয়াড়দের কাজ। দলের জয়েই সব সমালোচনা থেমে যায়। তাই মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে নজর দিতে হবে। তাসকিন দলের সতীর্থদের সেই বার্তাই দেন।