কক্সবাজারের উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলার চারজন, জিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুইজন এবং মোবাইল কোর্টে সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্তরাঁর সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমনও রয়েছেন। রোববার থানার ওসি আতিকুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের তথ্যমতে, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার চারজন হলেন টুপটুপ রিসোর্টের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন সুমন (২৯), পালংখালীর কোনাপাড়ার কলি মোল্লা (২৮), রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৬-এর বাসিন্দা মো. জুবায়ের (২৬) এবং রাজাপালংয়ের দক্ষিণ পুকুরিয়ার আবুল কাসেম ওরফে পেটান আলী (৩৯)। এ ছাড়া জিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৬-এর বাসিন্দা সামছুল হক ওরফে বেলাল (২৬) এবং হলদিয়াপালংয়ের সৈয়দ আহমেদ মনির।
পুলিশ জানায়, সামছুল হককে একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় পাঁচ বছর এবং ৩২৩ ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থদণ্ডও রয়েছে। অন্যদিকে সৈয়দ আহমেদ মনিরের দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মোবাইল কোর্টে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- বশির আহম্মদ (২৮), কাফায়েত উল্লাহ (২৪), কাফায়েত উল্লাহ (৪৩), মো. সাদেক (১৮) ও মো. রফিক (২৪)। তাদের মধ্যে দু’জনকে ২০ দিন করে এবং বাকি তিনজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে পুলিশের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে টুপটুপ রেস্তরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, মামলায় নাম উল্লেখ করা চার আসামির মধ্যে তানভীর আহমদ ও মোহাম্মদ সুমন রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে বাকি দু’জনের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আগুনে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের আগে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কক্সবাজারে সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডি’র বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
