স্প্যানিশ লা লিগায় বার্সেলোনার জয়রথ সচল। শনিবার রাতে সেভিয়ায় রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারায় বার্সেলোনা। এটি তাদের টানা নবম জয়। এতে রিয়াল মাদ্রিদের ৫৮ বছর আগের রেকর্ডে ভাগ বসালো কাতালান ক্লাবটি। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ লীগের প্রথম ৯ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। রিয়ালের রেকর্ডে ভাগ বসানোর পাশাপাশি ৯ ম্যাচে পূর্ণ ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থান আরও পোক্ত করেছে হান্সি ফ্লিকের দল। দলের জয়ে একটি করে গোল করেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস, এরিক গার্সিয়া ও বদলি নামা দানি ওলমো। বেতিসের হয়ে গোল করেন ভ্যালেন্তিন গোমেজ ও এজ আবদে।
ম্যাচের দশম মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সা। ডান দিক থেকে দুর্দান্ত গতিতে ভেতরে ঢোকেন ইয়ামাল। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়ান তিনি। ২৭ মিনিটে সমতায় ফেরে বেতিস। পাবলো ফোর্নালসের ক্রসে লাফিয়ে উঠে হেড করেন ভ্যালেন্তিন গোমেজ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে ফেরমিন লোপেজের কর্নার থেকে হেডে বার্সাকে আবার এগিয়ে দেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। এর পর জিও লো সেলসোর দুর্দান্ত ভলিতে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় বেতিস। কিন্তু আগের আক্রমণে কুচো হার্নান্দেজের হ্যান্ডবল ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বার্সা। বিরতির পর ৫১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান জেসুস। ডান প্রান্ত দিয়ে ইয়ামালের গতিময় আক্রমণের পর তাঁর বাড়ানো বলে নিখুঁত ফিনিশিং করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এক মিনিট পরই পাল্টা আক্রমণ থেকে ব্যবধান কমান আবদে। ডান পোস্ট ঘেঁষে নিচু শটে তিনি বেতিসকে আবার লড়াইয়ে ফেরানোর ইঙ্গিত দেন। কিন্তু ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ইয়ামালের সঙ্গে সংঘর্ষে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বার্নাল। এই ঘটনায় হলুদ কার্ড দেখেন ইয়ামালও। ১০ জনের বেতিসকে এরপর আর ম্যাচে ফিরতে দেয়নি বার্সা।
৬৩ মিনিটে ইয়ামালের ফ্রি-কিক সামলাতে ব্যর্থ হন বেতিস গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস। ফিরতি বল পাউ কুবার্সি হেডে গোলমুখে পাঠালে সহজেই জালে জড়ান এরিক গার্সিয়া। ব্যবধান হয় ৪-২। ৮১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে জয় নিশ্চিত করেন ওলমো। হ্যাটট্রিক ট্রফির মিশনে নেমে প্রথম ৯ ম্যাচেই শতভাগ জয় বার্সেলোনার। লীগে এ পর্যন্ত তাদের গোল ৩৯টি। এর সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লীগের দুই ম্যাচে ৯ গোল যোগ করলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে বার্সার গোল দাঁড়ায় ৪৮। শুধু স্প্যানিশ ফুটবল নয়, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগের দলগুলোর মধ্যেই এটি সর্বোচ্চ। ম্যাচপ্রতি গোল ৪.৩৬। বার্সার ধারেকাছে নেই কোনো ক্লাব। ১০ ম্যাচে ৩৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বায়ার্ন মিউনিখ। ১০ ম্যাচে ২৯ গোল করে যৌথভাবে তৃতীয় ফ্রেইবুর্গ ও ব্রাইটন। ১১ ম্যাচে ২৮ গোল নিয়ে পঞ্চম ম্যানচেস্টার সিটি। অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্নের চেয়েও ১২ গোল বেশি করেছে বার্সা। ১১ ম্যাচের ছয়টিতেই অন্তত ৫ গোল করেছে দলটি। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করেছে তারা। এ মৌসুমে সবচেয়ে কম গোল করেছে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে, সেই ম্যাচেও গোল ছিল দুটি। লা লিগায় চলতি মৌসুমে বার্সার হয়ে গোল করেছেন ১১ জন আলাদা খেলোয়াড়।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগে কোনো দলেরই এর চেয়ে বেশি গোলদাতা নেই। সেভিয়ারও আছেন ১১ জন। ইউরোপের বড় লীগগুলোর ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তুরিনোর। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে তারা করেছিল ১২৫ গোল। এরপর আছে রিয়াল মাদ্রিদ, ২০১১-১২ মৌসুমে ১২১ ও ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১১৮ গোল। বার্সেলোনার নিজেরও রেকর্ড আছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে লীগে ১১৬ গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক মৌসুমে বার্সার সর্বোচ্চ গোল ১৯০টি। ২০১১-১২ মৌসুমে ৬৪ ম্যাচে এসেছিল সেই গোল, লিওনেল মেসি একাই করেন ৭৩টি। এবার ১১ ম্যাচেই ৪৮ গোল করে সেই ক্লাব রেকর্ডের এক-চতুর্থাংশ ছুঁয়ে ফেলেছে ফ্লিকের দল। এত গোল আর টানা জয় নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রশ্ন করা হলে প্রায় নির্লিপ্ত ছিলেন বার্সা কোচ। বললেন, ‘ভালো।
তবে আমাদের লক্ষ্য ট্রফি। আমরা এর চেয়েও বড় কিছু জিততে চাই। ফুটবল তো সে জন্যই খেলি।’ একই দিন এস্পানিওলকে ১-০ গোলে হারায় অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। ৮৯ মিনিটে বদলি নামা আলেক্স বায়েনা জয়সূচক গোল করেন। হুলিয়ান আলভারেজের বাঁ দিক থেকে বাড়ানো বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। এই জয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলা অ্যাথলেটিকোর পয়েন্ট ২২। শীর্ষে থাকা বার্সার চেয়ে তারা পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে। তৃতীয় স্থানে থাকা বেতিসের পয়েন্ট ১৯। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার সেভিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লীগে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হবে বার্সা। এরপর ২৫শে অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো।
