ইছামতী নদীতে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ২৫ গ্রামের মানুষ

ইছামতী নদীতে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ২৫ গ্রামের মানুষ

ফন্ট সাইজ:

যুগের পর যুগ সেতু নেই। নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের ভরসা একমাত্র বাঁশের সাঁকো। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ইছামতী নদীর উপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ২৫ গ্রামের মানুষ। বর্ষা মৌসুমে বাড়ে ভোগান্তি। সাঁকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন স্থানীয়রা। উপজেলার আমডালা বাজারসংলগ্ন এলাকায় ইছামতী নদীর উপর বাঁশের সাঁকোটি রয়েছে। নদীটি উলাইল ও আরুয়া ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই ইউনিয়নের প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এ পথ দিয়ে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন অনেকে। এলাকার অনেক কৃষকের জমি নদীর অন্য পাড়ে। চাষাবাদ থেকে শুরু করে উৎপাদিত ফসল বাড়িতে নেয়া কিংবা বাজারে বিক্রি করতে তাদের নদী পার হতে হয়। বাঁশের সাঁকো দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে গিয়ে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্বজনদের। এ ছাড়া মৃতদেহ পারাপারে বড় সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। সেতু নির্মিত হলে দুই ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করাও সহজ হবে। তাই দ্রুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চান তারা। উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, নদীর উপর সেতু নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সেতুটি। শিবালয় উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাজ্জাক জানান, নদীর দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় আগে সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে মানুষের দুর্ভোগ ও এলাকার গুরুত্ব বিবেচনায় সেতু নির্মাণের একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির ডিজাইনের কাজ চলমান আছে। ডিজাইনের পর বাজেট হবে, এরপর অনুমোদন হবে প্রকল্পটি, তারপরই বাস্তবায়ন হবে।