লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কে বন্যহাতি দিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কে বন্যহাতি দিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি থেকে বুল্লা বাজার হয়ে জেলা সদর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কে পালিত হাতি দিয়ে চলছে অভিনব ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি। কোনো রকম আইনি তোয়াক্কা না করে এক যুবক পোষা হাতি নামিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন আটকে প্রকাশ্যে টাকা আদায় করছে। রোববার সরজমিন দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে পথরোধ করে দাঁড়াচ্ছে একটি বিশাল হাতি। চালকদের কাছ থেকে ৫০ টাকা, ১০০ টাকা এমনকি ২০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। কোনো চালক টাকা দিতে দেরি করলে বা ভাংতি টাকা না থাকলে চালক ও যাত্রীদের ভয় দেখাতে হাতি দিয়ে বিকট শব্দ করানো হচ্ছে এবং আক্রমণের ভঙ্গি তুলে দৌড়ানি দেয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনচালকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় সচেতন যুবকরা কারণ জানতে চাইলে ওই যুবক কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হাতিকে খেপিয়ে দিয়ে মানুষকে আক্রমণের হুমকি দেয়।

কোনো নিয়মনীতি বা তদারকি না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বন্যহাতি ব্যক্তিগতভাবে পোষা, কেনাবেচা বা কোনো বাণিজ্যিক/চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, বন্যপ্রাণীকে দিয়ে রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি, লোকালয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো বা বিনোদনের নামে শোষণ করা যাবে না। বন্যপ্রাণী লাইসেন্স নেয়ার যে কঠোর শর্তাবলী রয়েছে, তাতেও কোনো প্রাণীকে দিয়ে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি বা আর্থিক সুবিধা আদায়ের অনুমতি নেই। স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের দাবি, বন্যপ্রাণী আইনের তোয়াক্কা না করে এভাবে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত বনবিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ধরনের বিপজ্জনক অপকর্ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। জনস্বার্থে অবিলম্বে এই হাতিটিকে উদ্ধার করে বনাঞ্চলে পাঠানো এবং দায়ী যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।