গৌরনদী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম প্রধান শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৩১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকা এবং শিক্ষকদের অবসরজনিত কারণে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানে হিমশিম খাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন প্রশাসনিক সভায় অংশগ্রহণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রম তদারকির মতো বহুমুখী দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রায়ই দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে তাদের উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে নির্ধারিত ক্লাস নেয়া সম্ভব না হওয়ায় অন্য শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত পাঠদানের চাপ পড়ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জানা যায়, অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকলেও শিক্ষকরা উপযুক্ত মূল্যায়ন বা সম্মানী পাচ্ছেন না। নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল জমাদার, ধানডোব ১৩০ নম্বর কাজী মোখলেছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এইচ এম জাকির হোসেন এবং কুড়ির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মো. জিয়াউল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। একই রকম দুর্ভোগের কথা জানান অপর একটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা তালুকদার।
এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও কোনো অতিরিক্ত সম্মানী বা ভাতা পাওয়া যায় না।
?পূর্ব বাউরগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম টিটু বলেন, “আমি টানা তিন বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে। পাশাপাশি পদোন্নতির ফলে খালি হওয়া সহকারী শিক্ষকের পদগুলোতে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, যা শিক্ষক সংকট দূর করে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল আলম মৃধা জানান, ৭০ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, পদোন্নতির মাধ্যমে মোট শূন্য পদের ৬০ শতাংশ পূরণের প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে। বাকি ৪০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের বিষয়টি সরকারি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আদেশ পেলেই পদগুলো পূরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
