ইতিহাস ৩০০ বছরের ঢল নামে লাখো মানুষের

রাজনগরে লাল দুর্গা দেবীর পূজা

ইতিহাস ৩০০ বছরের ঢল নামে লাখো মানুষের

ফন্ট সাইজ:

উপ-মহাদেশের প্রসিদ্ধ লাল বর্ণের দুর্গা দেবীর পূজা হয় রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ে। দেশ-বিদেশের লাখো ভক্ত আসেন দেবী দর্শনে, কৃপার আশায়। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন পাঁচগাঁওয়ের এ মণ্ডপে। রাজনগর উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত এ মণ্ডপে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্যের একটি বিশাল টিম। স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরাও। পুলিশের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে র‌্যাব সদস্যরাও। এ বছর রাজনগর উপজেলায় সার্বজনীন ৮২টি ও ব্যক্তিগত ৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। রাজনগর উপজেলার জন্য নগদ ২ লাখ টাকা ও ৫০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এদিকে রাজনগরের পাঁচগাঁও মণ্ডপে আসেন বিচারপতি, মন্ত্রী, এমপি, চলচ্চিত্র শিল্পীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। কুশল বিনিময় করেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। মণ্ডপের পাশে বসে মেলা। হরেক রকমের প্রায় ৪০০’রও বেশি দোকান বসে। ফার্নিচার, খেলনা, লাইব্রেরিসহ মিষ্টির দোকান হয় বেশি। বেচাকেনা হয় কোটি টাকারও বেশি। পূজা উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় উপজেলার পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসহ থাকবে নিজেদের স্বেচ্ছাসেবীরা। থাকবে সিসিটিভিও।

পাঁচগাঁওয়ের লাল বর্ণের দুর্গা মূর্তি নিয়ে কথিত আছে, প্রায় তিনশ’ বছর পূর্বে সর্বানন্দ দাশ তৎকালীন সরকারের মুন্সী পদবি প্রাপ্ত কর্মস্থল আসামের শিবসাগর জেলার বাড়িতে দুর্গাপূজার সময় তার স্ত্রী ও কর্মচারীগণকে নিয়ে কুমারী পূজা করার মনস্থ করেন। মন্দিরের সেবায়েতের সহায়তায় সর্বানন্দ দাশ পঞ্চম বর্ষীয়া কুমারী নির্বাচন করেন। মহাঅষ্টমীর দিনে কুমারীকে ভগবতীর জ্ঞানে সুদীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পূজা করার শেষে প্রণাম করার সময় সর্বানন্দ দাশ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখেন, কুমারীর গায়ের বর্ণ পরিবর্তন হয়ে লালবর্ণ ধারণ করেছেন। এই দৃশ্য অবলোকন করার পর মাকে জিজ্ঞাসা করেন, মা’ আমার পূজা সুপ্রসন্ন হয়েছে কি? উত্তরে ভগবতী বলেন, ‘হ্যাঁ তোর পূজা সিদ্ধ হয়েছে। এই বর্ণে তোর গ্রামের বাড়ি পাঁচগাঁও-এর পূজামণ্ডপে আবির্ভূত হয়েছিলাম। এখন হতে ভগবতীকে লাল বর্ণে পূজা করবে।’

পরবর্তী বছর সর্বানন্দ দাশ নিজ বাড়ি পাঁচগাঁওয়ে শারদীয় পূজার আয়োজন করেন। মাতৃমূর্তিকে কুমারী গায়ের সেই লাল বর্ণের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে লাল বর্ণে রঞ্জিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজও সর্বানন্দ দাশের পরবর্তী বংশধর সঞ্জয় দাশের সার্বিক তত্ত্ব্বাবধানে নিজেদের মণ্ডপে লাল বর্ণের মূর্তির দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাঁচগাঁও মণ্ডপসহ সকল মণ্ডপ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সিসিটিভি’র ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদারকির জন্য উপজেলা পরিষদে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবেই পূজার অনুষ্ঠানাদি চলছে।