সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা ইউনিয়নের বনবাড়ীয়া গ্রামে সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর বিক্রি, একাধিক ঘর দখল এবং প্রকল্পের কমিউনিটি সেন্টারের আসবাবপত্র বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রকল্পের বসবাসকারী কয়েকজন বাসিন্দা। জানা যায়, ২০০১ সালে বনবাড়ীয়া গ্রামে ছয়টি সেট নিয়ে সরকারি আবাসন প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয় প্রকল্প-১। সেখানে ৬০টি ভূমিহীন পরিবার বসবাস শুরু করে। পরে ২০০৪ সালে আরও পাঁচটি সেট নির্মাণ করা হলে নতুন করে ৫০টি পরিবার সেখানে বসবাস শুরু করে। প্রকল্পের দুই নম্বর অংশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ছয়টি পরিবার বসবাস করতো। তারা ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেখানে বসবাস করেন। কিন্তু বনবাড়ীয়া গ্রামে বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-২ প্রকল্পের সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রহমত আলীসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর অত্যাচার ও হয়রানির কারণে ওই পরিবারগুলো আবাসন প্রকল্প ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।
পরিবারগুলো চলে যাওয়ার পর তাদের ছেড়ে যাওয়া ঘরগুলো সুযোগ বুঝে অন্যদের কাছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়। এ ছাড়া প্রকল্পের কমিউনিটি সেন্টারের আসবাবপত্র বিক্রি এবং একাধিক ঘর অবৈধভাবে দখল করে রাখারও অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় অফিসার তদন্ত শুরু করেছেন। ভুক্তভোগীরা বলেন, প্রকল্পের সভাপতি আমজাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী নিজের প্রভাব খাটিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৬টি ঘর অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেন।
সভাপতি আমজাদ হোসেনের নিজ নামে একটি ঘর বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৫টি ঘর ব্যবহার করছেন। সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী নিজ নামে একটি ঘর বরাদ্দ থাকলেও তিনি দুইটি ঘর দখল করেছেন। এ ছাড়াও প্রকল্পের কমিউনিটি সেন্টারের আসবাবপত্র বিক্রি করেছেন তারা। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত, সরকারি সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত বনবাড়ীয়া বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড-২ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়- সব মিথ্যা, আমি একটি ঘর ব্যবহার করছি। উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন বলেন, “বনবাড়ীয়া সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করেছি। প্রাথমিকভাবে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করে ইউএনও স্যারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তীতে ইউএনও স্যার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
