আনোয়ারায় অটোরিকশায় যুবককে অজ্ঞান করে লাখ টাকা ছিনতাই

আনোয়ারায় অটোরিকশায় যুবককে অজ্ঞান করে লাখ টাকা ছিনতাই

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন মো. জাবেদ উদ্দিন (২২) নামে এক তরুণ। তার অভিযোগ, অটোরিকশায় পাশে বসা দুই নারী তাকে অজ্ঞান করে সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের হাজীগাঁও এলাকার মনু মিয়ার মসজিদসংলগ্ন সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলেও পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে রোববার সকালে তিনি বাড়ি ফেরেন। জাবেদ উদ্দিন উপজেলার জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ইদ্রিছ চেয়ারম্যান বাড়ির বরফমিল এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মোহাম্মদ মুসা। পেশায় তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

রোববার দুপুরে জাবেদ উদ্দিন জানান, তাদের পরিবারের প্রায় সাত লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। ঋণের একটি অংশ পরিশোধের জন্য তার প্রবাসী বড় ভাই ব্যাংকের মাধ্যমে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা পাঠিয়েছিলেন। চাতরী চৌমুহনী এলাকা থেকে সেই টাকা তুলে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। জাবেদের ভাষ্য, অটোরিকশার পেছনের আসনে তার সঙ্গে দুই নারী বসেছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। এ সময় তিনি অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে ওই দুই নারী তাকে টেনে ধরেন। পরে তার মুখে কোনো কিছু স্প্রে করা হয়। এরপর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জাবেদ উদ্দিন বলেন, ‘হুঁশ ফেরার পর দেখি, আমি হাসপাতালে। আমার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২৭ হাজার টাকাও নেই। পরে বুঝতে পারি, ওই নারীরা টাকাগুলো নিয়ে আমাকে বেহুঁশ অবস্থায় ফেলে গেছেন।’ এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, শনিবার রাতে পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন শেষে তার নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ফিরছিল। পথে সড়কের পাশে লোকজনের জটলা দেখে তারা সেখানে যান। পরে এক তরুণকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, জাবেদকে হাসপাতালে আনার সময় তার শরীরে কাঁপুনি ছিল। তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো চেতনানাশক পদার্থ স্প্রে করা বা খাওয়ানোর কারণে তার এমন অবস্থা হয়ে থাকতে পারে। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।