চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও চাকরির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং কর্মীদের অন্য দপ্তরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় বৈষম্য ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিন দফা দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন তারা।
রোববার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ের সামনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষায় দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। দাবিগুলো হলোÑঅযৌক্তিক, অমানবিক ও নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাক্ষরিত তথাকথিত সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে বাতিল করা; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান অব্যাহত রাখা এবং কোনোভাবেই তা বন্ধ না করা; চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর না করা।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া কর্মীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেতন আটকে থাকায় তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনার খরচ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসদাই ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে আরবান হেলথ কেয়ার প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরে পাঁচটি মাতৃসদন ও ৪৩টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে এসব কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট-২’ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত।
দুটি আরবান প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম নগরের ৪১ ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রতি কেন্দ্রে আট থেকে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার, কাউন্সেলর, ফিল্ড সুপারভাইজার, প্যারামেডিকস, ল্যাব টেকনিশিয়ান, প্রশাসনিক সহকারী, রিসেপশনিস্ট, সার্ভিস প্রমোটর, আয়া-কাম-ক্লিনার এবং মেসেঞ্জার-কাম-সিকিউরিটি কর্মী। এসব কেন্দ্র থেকে নগরবাসীকে বিনামূল্যে ১৬ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে অন্যান্য সেবা প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমাম হোসাইন রানা বলেন, গত জুলাই থেকে সিটি করপোরেশনের চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও অন্যান্য শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকল্প ও স্থাপনাগুলো হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব পড়ে বেতন পরিশোধে।
তিনি বলেন, এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুধু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে নয়; ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১৯২ স্বাস্থ্য স্থাপনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
চসিক স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের তিন দফা দাবি
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
বাংলারজমিন
২ ঘন্টা আগে
১৮ অক্টোবর (রবিবার), ২০২৬, ৮ঃ১০ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
