মৌলভীবাজারের আমেরিকা প্রবাসী প্রথম বিয়ে গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা করেছিলেন। সবকিছু প্রস্তুতও ছিল। শুক্রবার ছিল বিয়ের দিন। কিন্তু খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রী আমেরিকা থেকে দেশে এসে অভিযোগ করেন থানায়। আর তাতেই পণ্ড হয়ে যায় আমেরিকা প্রবাসী বরের দ্বিতীয় বিয়ে। তবে, দ্বিতীয় বিয়ের কনের পরিবারের অভিযোগ, বরপক্ষ প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আর বরপক্ষের দাবি, কনেপক্ষকে আমেরিকার কোর্টের আদেশে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্সের কথা জানানো হয়েছিল।
আলোচিত এই বর হলেন রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে সৈয়দ কাওছার আলী (৪৫)। জানা যায়, ২০১৩ সালে রাজনগরের ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে সৈয়দ কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী আমিনা বেগমের (৫৫) বিয়ে হয়। পরে স্বামীকে আমেরিকায় নিয়ে যান আমিনা বেগম। সেখানে কয়েক বছর আগে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পাওয়ার পর সৈয়দ কাওছার আলী তার স্ত্রী আমিনা বেগমের সঙ্গে ডিভোর্সের আবেদন করেন। আমিনা বেগমের ছোট ভাই মো. আইয়ুব আলী বলেন, আমার দুলাভাই আপাকে কিছু না জানিয়েই দেশে চলে আসেন। দুলাভাই দেশে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা করছেন এ খবর পেয়ে আপা দেশে আসেন। শুক্রবার মৌলভীবাজারে নালিহুরী গ্রামে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে আপা মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এদিকে দেশে এসে সম্প্রতি আবার বিয়ে ঠিক হয় কাওছার আলীর। মৌলভীবাজারের নালিহুরী গ্রামে বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল মৌলভীবাজারের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে। এ উপলক্ষে অতিথিদের জন্য রান্নাবান্না ও সকল সাজসজ্জা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম বিয়ের খবর শুনে কনেপক্ষ রাজি নয় কাওছারের কাছে বিয়ে দিতে। কনেপক্ষের দাবি, আগের বিয়ে গোপন রেখে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন কাওছার আলী। ফলে এখন বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কনেপক্ষ।
কনের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, কাওছার আলী আগে বিয়ে করেছে এসব বিষয় আমাদের জানানো হয়নি। আমরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ক্ষতির শিকার হয়েছি। তবে বরপক্ষের দাবি, আমিনা বেগমের সঙ্গে কন্ট্রাক্টে বিয়ে হলেও পরে তাকে আমেরিকার আদালতে ডিভোর্স দেয়া হয়েছে। আর নতুন করে যেখানে বিয়ে ঠিক হয়েছিল সেখানে মেয়ের স্বজনদের এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হয়েছিল।
অভিযুক্ত সৈয়দ কাওছার আলীর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের বিয়ে হলেও আমেরিকায় ডিভোর্স হয়েছে। কিন্তু এখন বিয়ে ঠেকাতে মিথ্যা দাবি নিয়ে আমিনা বেগম মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা সে দেশে তাদের ডিভোর্স হওয়ার সকল কাগজপত্র মৌলভীবাজার থানার পুলিশকে দিয়েছি। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিপু কুমার দাস বলেন, আমিনা বেগমের অভিযোগ পেয়ে আমি বরপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বিয়ে বাংলাদেশে হলেও তারা আমেরিকায় ডিভোর্সের কিছু কাগজপত্র আমাকে দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
