মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার চরাঞ্চল চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ভোরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির নাম মুন্না মৃধা। সে টরকি এলাকার প্রয়াত মরণ মৃধার ছেলে। তিনি মাদকসেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে মুন্না বাড়িতে শুয়ে ছিলেন। রাত ১০টার দিকে আল আমিন ও সুমনসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে এসে জোর করে মুন্নাকে তুলে নিয়ে যান।

এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। জানা যায়, মুন্নার কাছে আগে গচ্ছিত রাখা মাদকের হিসাবনিকাশ নিয়ে এলাকার সুমন মিজি, সুমন, আল আমিন, বাবু ও রুবেলের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। জিকু ওরফে আল আমিন, বাবু মিজি ও রুবেল কাজীদের সঙ্গে মাদক বেচাকেনায় জড়িত ছিলেন। চলতি বছরের জুন মাসে মাদকসহ প্রথমে সুমন এবং পরে মুন্না মৃধা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্তি পান। নিহতের স্ত্রী সালেহা বেগম বলেন, মুন্নাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে আসে। তারা মুন্নাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু তারা টাকা দিতে অপারগতা জানান। পরে ওই ব্যক্তিরা তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর করেন। রাত ৩টার দিকে মুন্নাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যান তারা।

নিহত মুন্না মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানান মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, যে খুন হয়েছে এবং যারা খুন করেছে উভয় মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদক বেচাকেনার দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার হাতে কাটার চিহ্ন এবং পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান চলছে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।