এখানে একটি পাঠাগার আছে, তবে...

এখানে একটি পাঠাগার আছে, তবে...

ফন্ট সাইজ:

ব্যয়বহুল দৃষ্টিনন্দন বালাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ভাড়া দেয়া হয়েছে। তৃতীয় তলায় রয়েছে পাঠাগার। অরক্ষিত এই পাঠাগারটি অযত্ন-অবহেলা আর জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে এই পাঠাগারটি স্থাপন করা হলেও, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে তা আলোর মুখ দেখছে না। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১শে আগস্ট উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ পাঠাগারটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে পাঠাগার কক্ষের ভেতরে ছোট ছোট আরও কয়েটি কক্ষ সাজানো হয়। প্রতিটি কক্ষের ভেতরে ছিল দামি আসবাবপত্র। মূল পাঠাগার কক্ষে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র ছিল সাজানো-গোছানো। থরেথরে সাজানো ছিল কয়েক লাখ টাকা মূল্যের বই। সরজমিন দেখা যায়, ভবনের ভেতরের পাঠাগারের দরজায় তালা নেই। কক্ষটি দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কক্ষের ভেতরের আসবাবপত্র এবং মূল্যবান বইগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। বেশ কয়েকটা টেবিল ও চেয়ার ভাঙা।

এগুলো কক্ষের এক কোণে ঠাসাঠাসি করে রাখা। বই ও আসবাবপত্রের ওপর ধুলোবালির আস্তরণ পড়েছে। অনেক স্থানেই জমেছে মাকড়সার জাল। তদারকির অভাবে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। তবে, উদ্বোধনকালে যেসব আসবাবপত্র ও বই ছিল, এখন তা আর নেই। এগুলো কে কোথায় নিয়েছেন তার কোনো হদিস মিলছে না। মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ও পাঠাগার রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জুয়েল আহমদের কাছেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আমার কাছে এসবের কিছুই নেই। পাঠাগার কক্ষটি তালা লাগানো ছিল, এখন তালা নেই সেটি আপনার কাছ থেকে এখন জানতে পারলাম। তবে, পাঠাগারটি চালু করার বিষয়ে আলোচনা করবো। স্থানীয় বাসিন্দা ও তরুণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ ব্যয়ে এই কমপ্লেক্স তৈরি করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

পাঠাগার কক্ষটি এখন চরম অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে। নিয়মিত তদারকির অভাবে এটিকে এখন আর পাঠাগার মনে হয় না। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই জনপদে তরুণদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ও পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে এই পাঠাগারটি চালু করা হোক। একইসঙ্গে দ্রুত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য তারা এখানকার পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ও পাঠাগার রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা দেবনাথ বলেন, পাঠাগার পরিদর্শন করে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।