চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চ্যুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরেন উপাচার্য। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে অসুস্থ বোধ করায় তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান বলেন, উপাচার্য শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ভার্চ্যুয়ালি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন। তিনি ছুটিতে থাকায় সভায় যোগ দিতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত নন।
সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ও ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন বলেন, উপাচার্য তাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে সভার কথা জানিয়েছেন। তবে শুধু বার্তা পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না, কিংবা এটি বিধিসম্মত কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনের মধ্যে গত সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। খবর পেয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। পরে ভবনের ফটকে আবারও তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা।
এতে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে ১১ জন আটকা পড়েন। পরদিন উপাচার্য অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানালে তাকে পরীক্ষা করতে সেখানে যান দুই চিকিৎসক। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় উপাচার্যসহ আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়। পরে উপাচার্যকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
