দেশের অন্যতম শীর্ষ নারী শুটার কামরুন নাহার কলিকে সব ধরনের শুটিং কার্যক্রম থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই শাস্তিমূলক আদেশের চিঠি দেয়া হয়েছে কলিকে। গত ২রা ফেব্রুয়ারি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের ষষ্ঠ সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা খানম স্বাক্ষরিত চিঠিতে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কলির বরাবর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ২রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের ৬ষ্ঠ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনি বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ‘কোড অব কন্ডাক্ট’-এর ৫টি ধারার বিধি লঙ্ঘন করেছেন। আপনি ২৫শে জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের কার্যালয়ে সংঘটিত একাধিক নিন্দনীয় ও গুরুতর ঘটনার মাধ্যমে ফেডারেশনের তদন্ত কাজে আগত পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদক, নির্বাহী কমিটির (ইসি) সদস্যবৃন্দ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি চরম অশালীন, অপমানজনক হুমকিমূলক ও আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করেন। উক্ত আচরণ ফেডারেশনের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে এবং সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। অতএব, বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের ১৬.২০ ও ১৬.২১ ধারা মোতাবেক আপনাকে আগামী এক বছরের জন্য শুটিং ক্রীড়া হতে বহিষ্কার করা হলো।’ বহিস্কারাদেশের অনুলিপি কলির ক্লাব বাংলাদেশ নৌবাহিনী শুটিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিবকে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কলি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি প্রদত্ত স্কলারশিপ প্রাপ্ত ছয় ক্রীড়াবিদের একজন ছিলেন এবং সাময়িক বহিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত জাতীয় দলের ক্যাম্পে সেরা পারফর্মার ছিলেন। কিছুদিন আগে যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দারের বিরুদ্ধে বেশ ক’জন নারী শুটার যৌন হয়রানি ও কূপ্রস্তাব দেয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। কলি ছিলেন তাদেরই একজন। হায়দারের অপসারণ চেয়ে মিডিয়ায় কথা বলাই কাল হয় তার। কলির অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটিও। তাই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এতেই ক্রোধের শিকার এখন হতে হলো কলিকে। তাতে একটা সম্ভাবনারও অপমৃত্যু ঘটলো। এই শাস্তির ফলে কলির অলিম্পিক বৃত্তি পাওয়াও এখন শঙ্কার মুখে। এমন একজন শুটার এক বছর নিষিদ্ধ হওয়ায় বেশ শঙ্কিত বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন। সংস্থাটির সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) বলেন, ‘কলির বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছিলাম।
এর মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত অনভিপ্রেত। যেহেতু সে আইওসি স্কলারশিপ হোল্ডার, তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ফেডারেশনের উচিত ছিল অলিম্পিকের সঙ্গে আলোচনা করা। অলিম্পিকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক অবস্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।’ কলির বহিষ্কারের বিষয়টি নজরে আনলে ফেরদৌস আরা বলেন, ‘কিছু করেছেন বলেই তো বহিষ্কার করা হয়েছে ওকে (কলি)। ডিসিপ্লিন ভঙ্গ করার পর তাকে আমরা শোধরানোর সুযোগ দিয়েছিলাম; কিন্তু সে শুধরায়নি। এখন আপনি অন্যায় করবেন, তার শাস্তি হবে না; তা তো হতে পারে না। আর আমি কারও দ্বারা প্ররোচিত হই না। তার বিরুদ্ধে শাস্তিটা নিয়ম মেনেই হয়েছে।’ রোষানলের শিকার হয়েছেন দাবি করে কলি বলেন, ‘বহিষ্কারে আমার কোনো আফসোস নেই। কারণ আমি একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, প্রতিবাদ করছি। তদন্ত রিপোর্টে আমার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমি তাদের রোষানলের শিকার। আমার কারণে দুর্নীতি এবং তাদের সব অপকর্ম প্রকাশ পেয়েছে। তাই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে বহিষ্কার করেছে। আশা করি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ভালো একটি সরকার গঠন হলে তারা ভালো একটি সিদ্ধান্ত নিবে। এই কমিটি থেকে আমি ভালো কিছু আশা করছি না।’

নজরুল ইসলাম
৩ মাস আগেভুল সিদ্ধান্ত ।