কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের মুড়াবন্দ মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কয়েকজন তরুণের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে তারা বাড়ি ছেড়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিজেদের উপার্জনে স্বাধীনভাবে চলার পরিকল্পনা নিয়ে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
বুধবার কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান পিপিএম। উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং মাইশার ছোট বোন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (৮)। পুলিশ জানায়, গত ১২ই অক্টোবর স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর চার শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। ওইদিন বিকালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানায়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ তাদের সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়। একপর্যায়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা-পুলিশের সহযোগিতায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েকজন তরুণের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করা এবং নিজেরা উপার্জন করে স্বাধীনভাবে চলার পরিকল্পনা থেকে তারা বাড়ি ছেড়েছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীরা পরিবারের মূল্যবান জিনিসপত্র ও মুঠোফোন সঙ্গে নেয়। পরে কুমিল্লার বাহার মোবাইল মার্কেটে মাইশার পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন চার হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা। সেই টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায়। সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবস্থা করতে না পেরে পরে ঝুমুরের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা বিক্রি করা মুঠোফোন ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যান্য স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চার শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পুলিশের তৎপরতায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, অনলাইন পরিচয়ের নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের নজরদারির বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
