ঘাটাইলে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার

ঘাটাইলে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার

ফন্ট সাইজ:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের চান্দশী গ্রামে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে শিশু-কিশোর-বৃদ্ধসহ এলাকাবাসী। রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরের আঙিনায় পানি ওঠায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। মাসের পর মাস জলাবদ্ধ থাকায় আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। ফলে সময়মতো চাষাবাদ করতে না পেরে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত পৌর ট্যাক্স পরিশোধ করেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রতারিত হচ্ছেন তারা। পৌরসভার প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের কোনো সুবিধা নেই। বর্ধিত পৌরকর পরিশোধ করেও মিলছে না প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা। মাসের পর মাস জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে চান্দশী গ্রামের মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মিলে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভা। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও পৌর এলাকার এ ওয়ার্ডের কোথাও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে এখনো জমে রয়েছে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনা ও নোংরা পানি। কোথাও চলাচলের ভরসা খেয়া নৌকা, আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো। পচা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন স্থানীয়রা। দুর্ভোগ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। চান্দশী গ্রামের আরিফ হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও জমে রয়েছে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ছে মশার উপদ্রব।

দেখা দিচ্ছে ডেঙ্গু ও নানা ধরনের চর্মরোগ, শত শত পরিবার চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের জোর দাবি জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ঘাটাইল পৌরসভার প্রশাসক নূরী তাসমিন উর্মি জানান, তিনি পৌর এলাকার পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতে চান্দশী এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা রোধে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।