নলছিটি এলজিইডি’র প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

নলছিটি এলজিইডি’র প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

নলছিটি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা, দায়িত্বে অবহেলা ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তার তৃতীয় স্ত্রী বরিশাল সদর উপজেলার ৯৯ নং বগুড়া নথুল্লাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুসরাত শারমিন। এ ব্যাপারে এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

গত ১লা অক্টোবর দেয়া ওই আবেদনে অভিযোগকারী দাবি করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাজের বিল অনুমোদন, নিম্নমানের কাজের সঙ্গে সমঝোতা এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। এ ছাড়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ও বিভিন্ন কৌশলে অনেক নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে নির্যাতন এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী দাবি করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে তার কাছে অডিও রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ, মে ও জুলাই মাসের কয়েকটি কথোপকথনের রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি সেগুলো তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের সময় অবহেলা করেন এবং ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় করেন। এ ছাড়া নিজের স্ত্রী ও দু’টি কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্য নারীদের নিয়ে সরকারি বাংলো ও বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁয় অনিয়মিতভাবে যাতায়াত করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে চিকিৎসার নথি, তালাক সংক্রান্ত কাগজপত্র, মামলার আপসনামা, অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
অভিযোগকারী আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও দাপ্তরিক অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় অনিয়মের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগকারী আবেদনে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে কোনো নারীর সঙ্গে প্রতারণা করতে না পারে। একইসঙ্গে সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন শারমিন।
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে এখন আমি কিছু বলতে চাই না। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।