সাজেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আল্টিমেটাম, হরতাল-অবরোধের হুমকি

সাজেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আল্টিমেটাম, হরতাল-অবরোধের হুমকি

ফন্ট সাইজ:

সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের আসা-যাওয়ার ওপর আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেয়া এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে পুরো জেলায় টানা হরতাল ও সড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। বুধবার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে ‘পর্যটন সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিক’ ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে খাগড়াছড়ি ও সাজেকের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট মালিক, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন। সাজেক মালিক কটেজ-রিসোর্ট সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যকার কোন্দল আর আধিপত্য বিস্তারের মাশুল কেন সাধারণ ব্যবসায়ীদের দিতে হবে? সামনে শারদীয় দুর্গাপূজার টানা ছুটি। এ উপলক্ষে আমাদের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে প্রায় শতভাগ রুম বুকিং হয়ে গিয়েছিল। ঠিক এমন মুহূর্তে কোনো আগাম সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ করে বন্ধ ঘোষণা করায় পুরো পর্যটন খাত ধসের মুখে পড়েছে। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে খাগড়াছড়ি সম অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ উল্লাহ বলেন, সাজেক বন্ধ হয়ে গেলে শুধু কটেজ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন না, এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে।

খাগড়াছড়ি রেস্তরাঁ ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা বলেন, পূজার এই ছুটি কেন্দ্র করে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা আমরা করছিলাম, এক ঘোষণাতেই তা বড় অঙ্কের লোকসানে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত, ঢালাওভাবে সাজেক বন্ধ রাখা কোনো সমাধান হতে পারে না। উল্লেখ্য, পাহাড়ে দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপ (ইউপিডিএফ-জেএসএস)-এর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বুধবার থেকে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।