ইলিশ রক্ষায় সাগর-নদীতে ৮ই অক্টোবর থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ডিমওয়ালা মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। অথচ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকায় নিষেধাজ্ঞার প্রথমদিন থেকে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ৮টি নৌকা প্রতিনিয়ত নদীতে মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছে। ফলে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য। সরকারদলীয় লোকজন মৎস্য কর্মকর্তা, কোস্ট গার্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ সব অপকর্ম করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, অভিযানের প্রথমদিন থেকে যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেন দুই বেলা নদীতে নৌকা পাঠাচ্ছেন। মেঘনায় প্রচুর পরিমাণে ডিমওয়ালা মা ইলিশ থাকায় গত ৫দিনে একেকটি নৌকায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার করে মাছ বিক্রি করছেন। সরজমিন উপজেলার মতিরহাট গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীতে আটটি নৌকা মাছ ধরছে। সন্ধ্যা নামার পর নৌকাগুলো মাছ নিয়ে আসছে। পরে মতিরহাটের দক্ষিণ পাশে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করছে জেলেরা। ওই সময় দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরসহ দূর-দূরান্ত আসা লোকজন মাছ কিনে বাড়ি ফিরছেন। স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীতে সরকার নিষেধাজ্ঞা দিলেও সরকার দলীয় লোকজন মানছে না। এভাবে প্রকাশ্যে মাছ ধরা এবং বিক্রি অতীতে কেউ এমন দেখেনি।
নিষেধাজ্ঞার মুহূর্তে এভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন হলে আগামীতে মেঘনায় ইলিশ শূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান অনেকেই। এদিকে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কমলনগর কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার নুরুল আবছার জানান, নদীতে মাছধরার বিষয়টি তার নলেজে নেই। প্রতিদিনই তাদের টহল অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, মতিরহাটের মাছধরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খুব শিগগিরই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
