ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)কে ‘বিশ্ব জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে কটূক্তির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সৈকত হালদারকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সৈকত ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক ছাত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ফেসবুক পেজ ‘জবিয়ান্স’-এর একটি পোস্টের মন্তব্যের ঘরে মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন সৈকত। একপর্যায়ে তাকে ‘বিশ্ব জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পরে মন্তব্যটি সরিয়ে নেয়া হয়।
জানা যায়, গত ১২ই অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না করে পিকনিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে ‘জবিয়ান্স’ পেজের একটি পোস্টে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের মধ্যে সৈকতের বিরুদ্ধে এ কটূক্তির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের বিষয়ে সৈকত হালদার বলেন, ‘এটা আসলে হিট অব দ্য মোমেন্টে হয়ে গেছে। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মনসুরকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ- জেইউ) অধ্যাপক ড. কেএম জাহিদুল ইসলাম এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের ওয়ার্ডেন ড. মো. আলমগীর কবির। সদস্যসচিব করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ প্রশাসন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মাহতাব-উজ-জাহিদকে। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। পরে প্রক্টর অভিযোগটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য তদন্ত কমিটি গঠন ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন।
