নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের রিকশাচালক তুহিন হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় নিম্ন আদালত থেকে পুনরায় জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিন সেলিনা হায়াৎ আইভী আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে তার আইনজীবী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মো. তুহিন নামে ৩৬ বছর বয়সী এক রিকশাচালক নিহতের ঘটনায় তার স্ত্রী আলেয়া আক্তার হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই মামলার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
এ প্রতিবেদনের উপর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি ছিল। এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আইভী জামিনে থাকলেও এদিন আদালতে পুনর্জামিনের আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর হয় বলে জানান- আওলাদ হোসেন। এদিকে, আইভীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। পরে আইভী আদালতে হাজিরা দেন এবং শুনানি শেষে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য না দিলেও যাওয়ার সময় গাড়িতে ওঠার আগ মুহূর্তে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তার সঙ্গে কর্মী-সমর্থকরাও স্লোগান দেয়। আইভী বলেন, ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে তিনবারের নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে অপসারণ করা হয়। আইভী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। পরের বছর ৯ই মে সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় দেওভোগের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন আইভী। এরপর তাকে মোট ১২টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। প্রায় ১৩ মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর গত ৩রা জুন রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান আইভী।
