উঠতি ধান ঘরে তুলতে না পেরে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামের বৃদ্ধ আবুল হোসেন ভেঙে পড়েছেন। পূর্ব শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা আগাছানাশক প্রয়োগ করে তার ৫৪ শতক জমির ধানক্ষেত নষ্ট করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী কৃষক আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী তেঁতুলিয়া মডেলে থানায় একই ইউনিয়নের দক্ষিণ দর্জিপাড়ার হাসিবুল ইসলাম (৩৮), হরমুজ আলী (৪০) ও তাদের বাবা আব্দুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ মতে, গত ৯ই অক্টোবর সন্ধ্যার পর আবুল হোসেনের ভোগদখলে থাকা ৫৪ শতক জমির ধানক্ষেতে আগাছানাশক ‘রাউন্ডআপ’ প্রয়োগ করেন চিমনজোত এলাকার হাসিবুল ইসলাম, হরমুজ আলী ও তাদের বাবা আব্দুল হক। পরদিন ১০ই অক্টোবর সকালে আবুল হোসেন জমিতে গিয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার দৃশ্য দেখতে পান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদকে দেখান।
জানা যায়, গত ৮-৯ মাস ধরে ভুক্তভোগীর দর্জিপাড়া মৌজার জমি নিয়ে হাসিবুল, হরমুজ তাদের বাবা আব্দুল হকের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চান ভুক্তভোগী। কিন্তু সালিশি সিদ্ধান্তের পরও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ভুক্তভোগীর জমির পাশে আমার জমি। ধানক্ষেত দেখতে এসে অভিযুক্ত হাসিবুল ও হরমুজ আলীকে স্প্রে মেশিন নিয়ে জমিতে যেতে দেখেছেন। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আবুল হোসেন বলেন, আমি ধার-দেনা করে জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু হঠাৎ হাসিবুল, তার ভাই হরমুজ ও তাদের বাবা রাতের আঁধারে আমার ধানক্ষেতে কীটনাশক দিয়ে নষ্ট করেছে। আমার যে জমি নিয়ে বিরোধ সেটাতেও দিয়েছে আবার যে জমি নিয়ে বিরোধ নেই সেই জমির ধানও নষ্ট করেছে। আমি তাদের বিচার চাই। আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী বলেন, আমার বাবাসহ আমরা দুই ভাই এই জমিতে চাষাবাদ করে চলতাম। কিন্তু রাতের আঁধারে ভূমিদস্যু হাসিবুল, তার ভাই ও বাবা আমাদের ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়ে আজকে পথে বসিয়েছে। আমি থানায় ও জনপ্রতিনিধিকে অভিযোগ দিয়েছি।
এর আগেও অভিযুক্তরা এলাকার বিভিন্ন মানুষের ফসল ধ্বংস ও জমি দখল করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে জানার জন্য বাড়ি ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের পাওয়া যায়নি। তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন-অর রশিদ ধানক্ষেত নষ্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
