বঙ্গোপসাগরে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও সরকারি কোনো সহায়তা না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। ইতিমধ্যে এ দ্বীপের নিবন্ধিত প্রায় ১১ হাজার জেলের মধ্যে তালিকাভুক্ত মাত্র ৫ হাজার ৯০০ জনকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রকৃত নিবন্ধিত জেলেদের সরকারি বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়া উপজেলায় ৩৫ হাজার জেলে থাকলেও নিবন্ধিত জেলে সংখ্যা ১০ হাজার ৯৫৯ জন। এদের মধ্যে ৫ হাজার ৯০০ জন নিবন্ধিত জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে মোট ১৪৭.৫ টন চাল দেয়া হবে। ফলে, বাকি ৫ হাজার ৫৯ জন নিবন্ধিত জেলে এই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার মাহামুদুল করিম, শহীদুল্লাহ ও জাহাঙ্গীর আলমের মতো নিবন্ধিত জেলেরা জানান- আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি এই চাল বিতরণ নিয়ে নয়ছয় করার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারি সহায়তার চাল পাবেন এমন জেলেদের তালিকা নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টাঙানোর দাবি করেন। অন্যথায় নিবন্ধিত জেলেরা সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সাগরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলেদের সরকারি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা থাকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সুবিধাভোগীদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে জানান যে, প্রকৃত জেলেদের বঞ্চিত করে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
