মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আধিপত্য ধরে রাখার লড়াইয়ে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন বিশ্বের একমাত্র ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। এ জন্য জুলাই থেকে তিনি ২৭ কোটি ৬০ লাখ (২৭৬ মিলিয়ন) ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন দলটির পিছনে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পরিচিত অর্থদাতায় পরিণত হয়েছেন তিনি। অথচ সদ্য পিছনে ফেলে আসা মে মাসে এ দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেই সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে। ইলন মাস্ককে পুরস্কৃত করছেন ট্রাম্প। আর ইলন মাস্কও নীরবে দলের জন্য ভুরি ভুরি অর্থ দান করে যাচ্ছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এতে আরও বলা হয়, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচন সংক্রান্ত আর্থিক হিসাব জমা দেয়ার সময়সীমার আগে নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করে। পরে ইলন মাস্কের সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাকের মুখপাত্র অ্যানড্রু রোমিও এ অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার দেয়া হয়েছে ‘সিনেট লিডারশিপ ফান্ড’কে। এটি রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করা প্রধান সুপার প্যাক। মার্কিন ইতিহাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেয়া সবচেয়ে বড় অনুদানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এ ছাড়া ইলন মাস্কের নিজস্ব সুপার প্যাক ‘আমেরিকা প্যাক’-এ দেয়া হয়েছে আরও ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের যে বিশাল কর্মসূচি চালানো হয়েছিল, এবারও একই ধরনের বড় নির্বাচনী তৎপরতা গড়ে তুলেছে সংগঠনটি। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য। টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে কাজ করা ‘লোন স্টার লিবার্টি প্যাক’কেও এক কোটি ডলার দিয়েছেন ইলন মাস্ক। এই নির্বাচনটি মাস্কের রাজনৈতিক অর্থায়নের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মে মাসের সঙ্গে তুলনা করলে মাস্কের এই বিপুল অর্থায়নকে নীতিগত অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ব্যয় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তখন তার বক্তব্য ছিল, ‘আমার মনে হয়, আমি যথেষ্ট করেছি।’ এত বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ২০২৪ সালের তুলনায় এবার জনসমক্ষে অনেকটাই আড়ালে রয়েছেন ইলন মাস্ক। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের পাশে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাকে সমর্থন জানাতে দেখা গিয়েছিল মাস্ককে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুর দিকে সরকারি দক্ষতা বিভাগ বা ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’র নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। তবে সরকারি দায়িত্ব ছাড়ার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে অবশ্য দুই পক্ষের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়। গত সপ্তাহে ট্রাম্প মাস্ককে ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ বা জাতীয় বিজ্ঞান পদক প্রদান করেন। শেয়ারবাজারে দর ওঠানামার কারণে এ বছর মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের আশপাশে ওঠানামা করেছে। তবে ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে তার সম্পদ আবারও এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের হাতে নির্বাচনী অর্থের বড় সুবিধা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে ভোটারদের গভীর অসন্তোষ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং ইরানের সঙ্গে অজনপ্রিয় যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানরা সম্ভাব্য বড় ধরনের নির্বাচনী ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থের জোগান দলটির জন্য বিরল স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই অর্থ ব্যবহার করে টেলিভিশন ও অন্যান্য সম্প্রচারমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া বক্তব্যে মাস্কের সুপার প্যাকের মুখপাত্র অ্যানড্রু রোমিও বলেছেন, এই বিপুল বিনিয়োগ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে নিজেদের বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে ইতিহাসের প্রচলিত ধারা ভেঙে জয় পাওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের অন্তত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে মাস্কের এই বিপুল অর্থায়নের খবর প্রকাশের পর রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে অর্থের জোরে নির্বাচনী দুর্বলতা আড়াল করার অভিযোগ তুলেছে ডেমোক্রেটরা। ডেমোক্রেটদের সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষায় কাজ করা ‘সিনেট মেজরিটি প্যাক’-এর মুখপাত্র লরেন ফ্রেঞ্চ বলেছেন, রিপাবলিকানরা এসব নির্বাচন কিনে নেয়ার চেষ্টা করছে। নিজেদের অজনপ্রিয় প্রার্থী, অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট এবং অজনপ্রিয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ছাপিয়ে যেতে তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে কোটি কোটি ডলার ঢালছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বাঁচাতে গোপনে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ঢালছেন ইলন মাস্ক!
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
১ ঘন্টা আগে
১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ২০২৬, ১০ঃ০১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
