আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে আর সশরীরে আদালতে হাজির করা হবে না। নিরাপত্তা শঙ্কায় তাকে কারাগারে রেখেই ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসিকিউটর জানান, জিয়াউল আহসানের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং এখন তার জেরা বা ক্রস-এক্সামিনেশন অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত প্রতিটি কার্যদিবসেই তাকে নিয়মিত ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি জিয়াউল আহসানের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন করা হয়। আবেদনে তিনি নিজের জীবননাশের আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তার কারণে যে প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কারাগার থেকে আনা হয়, সেটিতে একা না এনে অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে ট্রাইব্যুনালে আনার আর্জি জানান।
এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের অবস্থান তুলে ধরে গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম জানান, তার নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কার সাথে প্রসিকিউশন একমত হলেও অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে একই ভ্যানে আনার আবেদনে প্রসিকিউশন আপত্তি জানায়। কারণ, তিনি যে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছেন, সে ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে বা ঘটানো হলে তা অন্য বন্দিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আসামিপক্ষ যেহেতু নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছে, তাই ট্রাইব্যুনাল আইন ও প্রচলিত আইনের আলোকে তাকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগারে রেখেই অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সিং বা ভার্চ্যুয়ালি হাজির করার প্রার্থনা জানায় প্রসিকিউশন। এর আগে করোনাকালীন সময়েও বহু আসামি, সাক্ষী ও বিচারক ভার্চ্যুয়ালি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এবং কারাগারে এ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত কারিগরি ব্যবস্থা রয়েছে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে জিয়াউল আহসানকে আর ট্রাইব্যুনালে সশরীরে না এনে কারাগার থেকেই ভার্চ্যুয়ালি বিচারিক কার্যক্রমে উপস্থিত রেখে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কায় জিয়াউল আহসানের বিচার হবে ভার্চ্যুয়ালি: প্রসিকিউশন
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
১ ঘন্টা আগে
১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ২০২৬, ১১ঃ০৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
