লিটনের সেঞ্চুরিতে জয়ের সুবাস

লিটনের সেঞ্চুরিতে জয়ের সুবাস

ফন্ট সাইজ:

আবুধাবি টেস্টে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ এবং মুশফিকুর রহীম ৮১ রানে আউট হন। দুই ব্যাটারের সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে গতকাল চতুর্থ দিন শুরু করে বাংলাদেশ। তবে গতকাল সেই আক্ষেপ দূর করেন লিটন দাস। টেস্ট ক্যারিয়ারের সাত নম্বর সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন দারুণ ব্যাটিংয়ে তার ১০২ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। লিটনকে ফিফটি করে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের রেকর্ড লক্ষ্য। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানরা শুরুতেই হারিয়েছে দুই উইকেট।

গতকাল ছয় উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে গতকাল খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পাঁচ রানে অপরাজিত লিটনের সাথে ক্রিজে আসেন মিরাজ। দু’জন দলকে দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে টেনে নেন রেকর্ড লক্ষ্যে
ব্যাট করতে নেমে লিটন ১৪ ও ২৬ রানে দুইবার জীবন পান। কায়েস আহমেদের বলে দুইবার ক্যাচ মিস হয়। সুযোগ নিয়ে ৬১ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। এই ইনিংসে ১৮ রান করার সাথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাচে নয় হাজার রানের রেকর্ড গড়েন লিটন। মুশফিকুর, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে তার অবস্থান। অন্যদিকে তৃতীয় দিন আগে তানজিদ হাসান ৩১ এবং সাদমান ইসলাম ১৩ রান করে আউট হন। মোমিনুল হক করেন সাত রান। গতকাল ব্যাট করতে নেমে ১১৫ বলে সাত নম্বর টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। তিনি ১১৭ বলে ১৪টি চার মেরে ১০২ রানে আউট হন। মিরাজের সাথে সাত নম্বর উইকেট জুটিতে ২০১ বলে ১৪৯ রান যোগ করেন তিনি। মিরাজ ৯৭ বলে পাঁচটি চার মেরে ৫২ রানে নটআউট থাকেন। বাংলাদেশ ১০৫.২ ওভারে সাত উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে।

ম্যাচের প্রথম নম্বর ইনিংসে বাংলাদেশ দলের রানের ভিত্তি গড়েন ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম। তানজিদ ৮৩ রান করেন এবং সাদমান করেন ৬৭ রান। সেই ইনিংসে লিটনের ব্যাটে আসে ৫৩ রান। এছাড়া মোমিনুল ৩৯ ও নাইম হাসান ৩৫ রান করেন। আফগানিস্তানের বোলার মোহাম্মদ সলিম চার উইকেট নেন এবং ইয়ামিন আহমদজাই পান তিন উইকেট। ৩৪৬ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান তাদের এক নম্বর ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হয়। আফগান ব্যাটার আবদুল মালিক ৬২ রান করেন এবং রহমত শাহ করেন দশ রান। রহমত শাহ ২৮ ওভারের বেশি ব্যাট করে নটআউট থাকেন। আফগানিস্তানের ইনিংসে ধস নামান বাংলাদেশের দুই পেসার হাসান ও এবাদত। হাসান ৫৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। হাসান পরপর তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখান। তার বোলিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হয়। এবাদত ৫৬ রানে চার উইকেট নেন। স্পিনার মিরাজ পান এক উইকেট। এক নম্বর ইনিংস শেষে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় আফগানিস্তান। দলীয় তিন রানের মাথায় ওপেনার আবদুল মালিককে আউট করেন এবাদত। দুই রানে থাকা মালিকের ক্যাচ ধরেন লিটন। এরপর ২৮ রানে দুই নম্বর উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ১৯ রান করা শাহিদুল্লাহকে আউট করেন হাসান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ ধরেন লিটন। দুই উইকেট পড়ার পর ব্যাট করেন সিদিকুল্লাহ আতাল ও রহমত শাহ। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে টেস্ট ক্রিকেটে নয়া রেকর্ড তৈরি করতে হবে।