৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৮ রানে দুই ব্যাটারকে হারায় আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের বোলারদের পরীক্ষা নেন রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আটাল। দু’জনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৮২ রান। এ জুটি মোকাবিলা করেন ২১৪ বলে। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত সেঞ্চুরি করা রহমত শাহ ক্রমেই ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে যাচ্ছিলেন। তার আগেই ফিফটি করা রহমতশাহকে ফিরিয়ে শেষবেলায় বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান পেসার ইবাদত হোসেন। চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য শেষ দিনে স্বাগতিকদের প্রয়োজন ৩৪৭ রান। আর বাংলাদেশের দরকার ৭ উইকেট। আটাল ৩৫ ও হাশমাতুল্লাহ শহিদি ১৯ রানে অপরাজিত থেকে শেষ দিন ব্যাট করতে নামবেন।
আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে আঘাত হানেন ইবাদত। দ্বিতীয় ওভারে লিটন দাসের ক্যাচ বানিয়ে ওপেনার আব্দুল মালিককে সাজঘরে ফেরান। দলীয় ২৮ রানের মাথায় তিনে নামা শহীদুল্লাহও লিটনের হাতে ধরা পড়েন। ১৯ রান করে হাসান মাহমুদের বলে আউট হন তিনি। আবুধাবি টেস্টে এটি লিটনের সপ্তম ডিসমিসাল। শহীদুল্লাহর ক্যাচটি নেয়ার মাধ্যমে ২২ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসান তিনি। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলট সাতটি ডিসমিসাল করেছিলেন। এরপর রহমত শাহ ও সিদ্দিকুল্লাহ অটলের জুটিতে ঘুঁরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় আফগানিস্তান। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ১২১ বলে ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি করেন। সেই রহমতকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান ইবাদত। ৪৩তম ওভারের প্রথম বলে ইবাদতের গুড লেন্থ ডেলিভারির এক্সটা বাউন্স বুঝে উঠতে পারেননি রহমত। আউটসাইড এজ হয়ে সরাসরি বল চলে যায় লিটন দাসের গ্লাভসে। রহমতের ক্যাচ নেয়ার মাধ্যমে এক টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ আট ডিসমিসালের নতুন রেকর্ড গড়েন লিটন। শুধু তাই নয়, নাম লিখিয়েছেন উইকেটরক্ষকদের এলিট ক্লাবে। এক টেস্টে ফিফটি ও সেঞ্চুরির পর আট ডিসমিসাল করে প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক ডেনিস লিন্ডসকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। আজ আরেকটি ডিসমিসাল করতে পারলে বিশ্বরেকর্ড গড়বেন লিটন।
তবে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ১১ ডিসমিসাল করা তিন ক্রিকেটার রয়েছেন। সেই রেকর্ডও গড়ার সুযোগ আছে লিটনের। এর আগে ডানহাতি এ ব্যাটারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি ও মেহেদি মিরাজের ১১তম ফিফটিতে ভর করে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
