বল হাতে বাংলাদেশের পেসারদের দাপট এখন আলোচনায়। চলমান আফগানিস্তান টেস্টেও দারুণ বোলিং করছেন পেসাররা। বিশেষ করে দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন আফগানদের লাগাম টেনে ধরছেন। সাদা বলের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলামরা। তবে বিসিবির এইচপি দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মনে করেন, পেসারদের এই সাফল্যের চিত্র এখনো শীর্ষ পাঁচ-ছয়জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তাদের পেছনে থাকা বোলারদেরও ওই পর্যায়ে নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সালাউদ্দিন বলেন, ‘সোনালী সময়টা আসলে শীর্ষ পাঁচ-ছয়টা বোলারেরই যাচ্ছে, বাকিদের যাচ্ছে না। যেহেতু পাঁচ-ছয়জন আসলে আমাদের খুব ভালো মানের বোলার আছে এবং পরবর্তী দলে যারা আছে, তারা যেন তাদের কাছাকাছি আসে বা তাদের মানের হয়, সেটাই আমাদের আসলে লক্ষ্য।’
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের পাইপলাইনে থাকা বোলারদের উন্নতির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন এই কোচ। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের শীর্ষ যারা পাঁচ-ছয়জন আছে, তারা মোটামুটি একটা ভালো পর্যায়ে চলে গেছে। আমাদের পরবর্তী যারা পাইপলাইনে আছে, তারা যেন আরও ভালো বল করে, সেটাই আসল বিষয়।’ এই পাইপলাইন সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে প্রতিভাবান পেসার খোঁজার কার্যক্রম ‘বোলার হান্ট’। গত মাসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায় দেশের নয়টি ভেন্যুতে চলছে প্রতিভা অন্বেষণ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকায় আয়োজিত কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন। দীর্ঘ বিরতির পর এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আয়োজকদের প্রশংসা করেছেন সালাউদ্দিন। তার বিশ্বাস, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সহজাত প্রতিভাদের খুঁজে বের করে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যা দিতে পারলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ভালো মানের বোলার পাবে। তিনি বলেন, ‘এটা অনেকটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অনেক দিন পর আবার খেলোয়াড় খোঁজার প্রক্রিয়া হচ্ছে।
আশা করবো, ভবিষ্যতে এ রকম উদ্যোগ আরও হবে। আমার বিশ্বাস, এখানে অনেক সহজাত প্রতিভা আছে, যা ভবিষ্যতে আমাদের কাজে লাগবে।’ ঢাকায় কয়েকজন সম্ভাবনাময় বোলারকে দেখেছেন এই কোচ। তবে বোলার হান্টের সামগ্রিক সাফল্য নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না তিনি। সব ভেন্যুর প্রতিভাদের মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত বাছাইয়ের পরই বোঝা যাবে, এই উদ্যোগ থেকে কতটা সম্ভাবনাময় বোলার পাওয়া গেল। এর মধ্যেই ঘণ্টায় ১৩৮ কিলোমিটার গতিতে বল করা এক পেসারকে বিশেষভাবে আশাব্যঞ্জক মনে হয়েছে সালাউদ্দিনের। তার উচ্ছ্বাসও ঝরেছে ওই তরুণকে নিয়ে।
সালাউদ্দিন বলেন, ‘এখানে আমি কিছু ভালো বোলার দেখেছি। অন্য বিভাগে হয়তো এর চেয়েও ভালো বোলার থাকতে পারে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পরই তুলনা করতে পারব, আমরা কতটা ভালো প্রতিভা পেয়েছি। একটা ছেলে যখন ১৩৮ কিলোমিটার গতিতে বল করে, তখন খুশি না হয়ে আসলে কোথাও যেতে পারবো না। অনেক খুশি হয়েছি। দোয়া করি, ভবিষ্যতে সে যেন আরও উন্নতি করতে পারে।’
