কষ্ট নিয়েই চলে গেলেন নাসিমা খান

কষ্ট নিয়েই চলে গেলেন নাসিমা খান

ফন্ট সাইজ:

চলে গেলেন এক সময়ের বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ষাটের দশকে ঢাকার চলচ্চিত্রে যে ক’জন অভিনেত্রী পরিচিতি পেয়েছিলেন, নাসিমা খান তাদের অন্যতম। তখনো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে। সেই সময় বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন নাসিমা খান।

পরে ঢাকা ও লাহোরের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাতদিন আগে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন নাসিমা খান। ছেলের সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন তিনি। অবশেষে ছেলেকে না পাওয়ার কষ্ট নিয়েই চলে গেলেন তিনি। তার বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। নাসিমা খান ঢাকার অদূরে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকায় বসবাস করতেন। ১৯৪৪ সালের ৬ই আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম নাসিমা খানের। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটবেলা থেকে সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। পড়াশোনা করেছেন কামরুন্নেসা স্কুলে, শিখেছেন নাচও। ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় নাসিমা খানের। ছবিটি ১৯৫৯ সালের মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপদক অর্জন করে। প্রথম চলচ্চিত্রের পরই আরও কাজের সুযোগ আসে নাসিমা খানের। বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি।

১৯৬১ সালে সালাহউদ্দিন পরিচালিত ‘যে নদী মরু পথে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর পরিচিতি বাড়ে নাসিমা খানের। এরপর ‘সূর্যস্নান’ ছবিতে অভিনয় তাকে নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করে। অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ই অক্টোবর। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার বড় ছেলে দেশে ফেরার পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।