যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অধিদপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিয়োগে মেধার মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে যুবশক্তির আয়োজনে ঘেরাও কর্মসূচি থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি এডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। এককোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে এককোটি চাঁদাবাজ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি থাকলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সচল করার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে তরুণদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে তারিকুল বলেন, প্রশ্নফাঁসের তথ্য পরীক্ষার আগের রাতেই সামনে এলেও পরীক্ষা শুরুর আগে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা তাদের ন্যায্য হিস্যা কোনো রাজনৈতিক দল আদায় করে দেয়নি। আমরা রাজপথে নেমে সবসময় আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফরহাদ সোহেল বলেন, বিএনপি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হওয়ার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোকে দলীয়করণ এবং অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের যুবসমাজ বারবার বঞ্চিত হয়েছে, বারবার তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। বিএনপি আবার নতুন খেলায় লিপ্ত হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এককোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান ফরহাদ সোহেল।
সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে পাওয়া তথ্য থেকে তাদের সন্দেহ হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম আরও বিস্তৃত হতে পারে। আমাদের সন্দেহ হয়, এবার হয়তো ভাগ-বাটোয়ারায় গণ্ডগোল লেগেছিল। এজন্য কেউ না কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছে। অন্যথায় ঘটনাটি সামনে আসতো না।
ঘেরাও কর্মসূচি থেকে জাতীয় যুবশক্তির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। সেগুলো হলো- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের পদত্যাগ; প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা; নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা; ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং ভাইভার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা; বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করতে হবে।
