থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আজ শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা। আজ সোমবার থেকে শুরু হয়ে এই সম্মেলন চলবে আগামী ১৮ই অক্টোবর পর্যন্ত। বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ প্রস্তাব ও বিশ্বব্যাংকের নানা সুপারিশ বার্ষিক সভায় এবারের অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সভায় অংশ নিতে অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন ব্যাংককে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বাংলাদেশের সব থেকে বড় উন্নয়ন সহযোগী। বিশ্বব্যাংকের ঋণে প্রায় ৩৭টি প্রকল্প চলমান বাংলাদেশে।
বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা খাত, ক্লিন এয়ার, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবাসহ নানা খাতে ঋণ দিয়ে থাকে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হবে। এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুরনো ঋণ বাতিলের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। নতুন কর্মসূচির মেয়াদ হবে তিন বছর। বার্ষিক সভায় নতুন ঋণ কর্মসূচির চুক্তি হতে পারে। এখন শর্ত নিয়ে দরকষাকষি চলছে। শর্তের মধ্যে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের সরকারি ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বার্ষিক সভায়।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংক খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়গুলো নিয়েও বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হবে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, রাজস্ব আহরণের দুর্বলতাও বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় জিডিপি’র মাত্র ৮.৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ফলে সরকারের হাতে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। এ সমস্যা নিরসনে করণীয় বিষয় বস্তু নিয়ে বার্ষিক সভায় আলোচনার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখন ব্যাংককে। ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেয়ার কথা রয়েছে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদল ও বেসরকারি সংস্থার অনেক প্রতিনিধিও অংশ নিয়েছেন।
