জাপানের ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে সামপ্রতিক পরিবর্তন নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ব্লগার ও বিভিন্ন মাধ্যমে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচারের কারণে সেই উদ্বেগ আরও বাড়ছে। ফলে প্রকৃত নিয়ম ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে। বাস্তবে জাপান সরকার ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন এনে মূলত বৈধভাবে বসবাস নিশ্চিত করা, অবৈধ অবস্থান ও আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং জাপানের সামাজিক ও কর্মপরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলাই বিদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা নির্ধারিত সময়ে নবায়ন বা মেয়াদ বাড়ানো, ভিসার শর্ত অনুযায়ী কাজ করা, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত কর্মঘণ্টা মেনে চলা, নির্ধারিত কর ও সামাজিক বীমার অর্থ যথাসময়ে পরিশোধ করা এবং ঠিকানা বা চাকরি পরিবর্তন হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের আইনবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।
কর ও সামাজিক বীমার বকেয়া, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন কিংবা অন্যান্য আইনভঙ্গের বিষয় ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন, দীর্ঘমেয়াদি বসবাস বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব বিষয়ে অবহেলা না করে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে আয়, জীবনযাপন, আইন মেনে চলা এবং অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাগত দক্ষতাসহ বিভিন্ন যোগ্যতার বিষয়ে সময় ও আবেদনভেদে পৃথক শর্ত থাকতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অসম্পূর্ণ বা অতিরঞ্জিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন। জাপানে শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন থাকার বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের অজানা নয়। তবে জাপান চায়, বিদেশি নাগরিকরা দেশটির আইনকানুন মেনে চলার পাশাপাশি জাপানি সমাজের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে বসবাস করুন। অতএব, জাপানের কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে নিজের ভিসার শর্ত, কর, সামাজিক বীমা, চাকরি ও বসবাসসংক্রান্ত নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। আইন মেনে চলা বিদেশি নাগরিকদের জন্য আতঙ্কের চেয়ে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
