আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিন বাংলাদেশের সামনে প্রাচীর হয়ে মাঠে নেমেছিলেন রহমত শাহ। শেষ পর্যন্ত তিনি সেঞ্চুরি করে অপরাজিতও থাকেন। তবে অন্য প্রান্তে ব্যাটারদের সামনে ছিল আতঙ্ক। এক ওভারে পর পর তিন উইকেট তুলে নিয়ে আফগান ব্যাটিং প্রতিরোধ ভেঙে দেন হাসান মাহমুদ। নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের রেকর্ড বইয়ে ঢুকে পড়েন এই ডানহাতি পেসার। এতে হাসান গড়েছেন ‘ডাবল রেকর্ড’। টেস্টে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এটি দ্রুততম ৫০ উইকেট এবং বাংলাদেশি কোনো পেস বোলারের প্রথম হ্যাটট্রিক। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় হ্যাটট্রিক এটি। গতকাল সকালে চার উইকেটে ২১১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। তবে মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই বাকি ছয় উইকেট হারায় আফগানরা।
সেই সুবাদে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায়। হাসান ৫৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তার চতুর্থ ফাইফার। গতকাল ইনিংসের ৮৩তম ওভারে তিনি পরপর তিন বলে তিন উইকেট তুলে নেন। ওভারের দ্বিতীয় বলে ইসমত আলম বোল্ড হন। তৃতীয় বলে ব্যাটের কানায় লাগা বল দারুণ ক্যাচ ধরে কাইস আহমেদকে সাজঘরে ফেরান লিটন দাস। চতুর্থ বলে জিয়া উর রহমান আকবর এলবিডব্লু হন। মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দিলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ছয় সেকেন্ড সময় বাকি থাকতে রিভিউ আবেদন করেন। রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্টাম্পে লাগতো। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদলান এবং হাসান মাইলফলক স্পর্শ করেন। টেস্টের দেড় শত বছরের ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক।
হাসান পরবর্তীতে ইয়ামিন আহমাদজাইকে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার চতুর্থ পাঁচ উইকেট। আবুধাবিতে বাংলাদেশ দলের এটি ১৬২তম টেস্ট ম্যাচ। এর আগে ১৬১ ম্যাচে টাইগার বোলারদের দুটি হ্যাটট্রিক ছিল মাত্র। পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন। দশ বছর পর চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সোহাগ গাজী দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পান। আগের দুজন বোলার ছিলেন স্পিনার। কাপালি লেগ স্পিনার এবং গাজী অফ স্পিনার। এবার পেস বোলার হিসেবে যুক্ত হলেন হাসান। তিনটি বলে তিনটি উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। আবুধাবির মাঠে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রান খরচ করে পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে দেন। আফগানিস্তানের মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের দ্রুত সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। বাংলাদেশ এতে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। হাসানের এই তিন উইকেট শিকারের ধরন ছিল তিন ধরনের।
ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হন ইসমত। তৃতীয় বলে উইকেটের পেছনে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কাইসের ক্যাচ নেন লিটন। চতুর্থ বলে জিয়া এলবিডব্লু হন। তিন বলে বোল্ড, ক্যাচ ও এলবিডব্লু দারুণ এক কম্বো হেটট্রিক। টেস্ট ক্রিকেটে ৪৯তম হ্যাটট্রিক করেছিলেন স্কট বোল্যান্ড। কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সেই হ্যাটট্রিক । চলতি বছরে টেস্টে হাসানের এই হ্যাটট্রিক প্রথম। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সকালে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয় হাসানের অসাধারণ বোলিংয়ে। আগের দিনের অপরাজিত জুটিতে আঘাত হানে বাংলাদেশ। চার উইকেটে ২১১ রান থেকে ২৪০ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান।
আবুধাবিতে ৮৩তম ওভারের তৃতীয় থেকে পঞ্চম বলে উইকেট তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ হাসান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। ঠিক তার ১০ বছর পর হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী। চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
আহমাদজাইকে সাজঘরে ফিরিয়ে টেস্টে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। ‘ফিফটি’ পূর্ণ করতে হাসানের লাগলো ১৭ ম্যাচ। এতে তিনি ভেঙে দিলেন তাসকিন আহমেদের রেকর্ড। তাসকিনের টেস্টে ৫০তম উইকেট পেতে খেলতে হয়েছে ১৮ ম্যাচ। তিনে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজা ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে ১৯ ম্যাচে ৫০ শিকার পূর্ণ করেন।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাইফারের কীর্তি এখন শাহাদাত হোসেন এবং হাসানের। দুজনই ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে চারবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। দুই নম্বর স্থানটিও যৌথভাবে রবিউল ইসলাম, নাহিদ রানার। রানা, রবিউল দুজনেই টেস্টে দুইবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন।
