অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস সোবহানা জ্যোতির

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস সোবহানা জ্যোতির

ফন্ট সাইজ:

ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গতকাল এক রূপকথার জন্ম দিলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। মাত্র ৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপর্যয়ে ধুঁকছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন সোবহানা মোস্তারি ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার গড়েন ১৯৫ রানের ম্যারাথন জুটি, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। শুধু তাই নয়, ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেকোনো দলের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও এটি। তবে জয় পায়নি মেয়েরা। ২৮.১ ওভারে ৯ উইকেট হাতে রেখে টাইগ্রেসদের দেয়া ২২১ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজও নিজেদের করে নিলো স্বাগতিক মেয়েরা।

অস্ট্রেলিয়ার পেস ও বাউন্সি উইকেটে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেখান থেকে ঠাণ্ডা মাথায় দলকে টেনে তোলেন সোবহানা ও জ্যোতি। আক্রমণ আর আস্থার দারুণ প্রদর্শনীতে ৬৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন ২৪ বছর বয়সী সোবহানা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার তিনি। ১৩৪ বলের মোকাবেলায় ১৮টি চারের সাহায্যে ১১৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন সোবহানা। এটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। মেগান শুটের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তার এই ইনিংসটি দলের ভিত মজবুত করে। অন্যদিকে, অধিনায়ক জ্যোতি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১১৪ বলে ৭৪ রানের দায়িত্বশীল এক ইনিংস খেলেন, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি। এই জুটির সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২০ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লাল-সবুজের মেয়েদের দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগের রেকর্ডটি ছিল গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে করা ১৯৮ রান।

ম্যাচের পর নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে সোবহানা বলেন, ‘আমি আমার ১০০ রান নিয়ে খুব খুশি। কারণ, আমি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ব্যাটিং করেছি। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং তাদেরই মাটিতে আমার প্রথম সেঞ্চুরি। তাই আমি সত্যিই খুব খুশি।’
রান তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় অস্ট্রেলিয়া। দুই উদ্বোধনী ব্যাটার ফোবে লিচফিল্ড ও জর্জিয়া ভোল দ্রুত রান যোগ করতে থাকেন। সেই সুবাদে স্রেফ ১৯.৫ ওভারেই এ জুটিতে আসে ১৬২ রান। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। দ্রুত ফিফটি পূরণ করে ৭০ রানে থামেন লিচফিল্ড। স্রেফ ৫১ বলে ১১টি চার ও ১টি ছয়ে সাজানো তার ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র উইকেট নেন স্বর্না আক্তার। এরপর এলিস পেরিকে নিয়ে সহজেই জয় বন্দরে পৌঁছে যান আরেক ওপেনার ভোল। সেঞ্চুরি পূরণের পর ১৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মাত্র ৯৭ বলে খেলা তার ইনিংসটি সাজানো ১৯টি চারে। ব্যক্তিগত ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন পেরি।
তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডে খেলতে আগামী ১৪ই অক্টোবর ব্রিসবেনেই মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।