শান্ত-মুশফিকের দৃঢ়তা এবং আক্ষেপ

শান্ত-মুশফিকের দৃঢ়তা এবং আক্ষেপ

ফন্ট সাইজ:

হাসান মাহমুদের রঙিন শুরুর পর তৃতীয় দিনের শেষটা রাঙাতে পারতেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকের রহীম। তবে শেষ বিকালে ১০ রানের ব্যবধানে সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে দুই ব্যাটারই সাজঘরে ফেরেন। নাইটওয়াচ ম্যান হিসেবে ব্যাট করতে নামা হাসান মাহমুদ শেষের সময়টুকু পার করতে পারেননি। ৬ বলে ১ রান করে আউট হয়ে যান। শেষ বেলার এই অংশটুকু বাদ দিলে আবুধাবি টেস্টের তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান তোলা টাইগারদের লিড ৩২৯ রানের। লিটন কুমার দাস ৫ ও মেহেদি হাসান মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা ভালো হলেও দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। সাদমান ১৩ রানে মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে ক্যাচ দেন। মুমিনুল ফেরেন ৭ রানে।

তানজিদ ৩১ রানে থামেন। ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ব্যাট হাতে দৃঢ়তা দেখান নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহীম। দুজনের জুটিতে আসে ১৫৯ রান। তৃতীয় সেশনের শুরুতে ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিক। টেস্টে ৭ ইনিংস পর ফিফটি পেলেন তিনি। এটি মুশফিকের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটি। এরপর ফিফটি পান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে সেঞ্চুরি পাননি কেউই। মুশফিক ৮১ ও নাজমুল ৮২ রানে ফেরেন। এক ফাঁকে এলবিডব্লুর আবেদনে আউট হয়েও রিভিউ নিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন নাজমুল। পাঁচ ওভারের ব্যবধানে তিন ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দিন তৃতীয় দিন ব্যাট করতে নামে আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে ইকরাম আলিখিলকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন ইবাদত হোসেন।

এরপর শুরু হয় হাসান মাহমুদের কীর্তি। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে কায়েসের ব্যাটের কানা লেগে বল গেলে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ নেন লিটন দাস। পঞ্চম বলে জিয়া-উর-রেহমান এলবিডব্লু। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউয়ে সফল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেন হাসান। পরে ইয়ামিন আহমদজাইকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। তার ফাইফারের পর অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি পান আফগানিস্তানের রহমত শাহ। টেস্টে এটি তার চতুর্থ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে অলআউট আফগানিস্তান। দিনের প্রথম সেশনে ২৯ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। হাসান ৫৫ রানে ৫ ও ইবাদত ৫৬ রানে নেন ৪ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করা বাংলাদেশ ১০৬ রানের লিড পায়।