লীগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ ঢাকা আবাহনীর ক্লাব লাইসেন্সিং সংক্রান্ত জটিলতায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় স্থানে থাকা ফর্টিস এফসি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্লে-অফে কিরগিজস্তানের ক্লাব মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেয় তারা। আগামী ১৭ই অক্টোবর থেকে কুয়েতে শুরু হবে গ্রুপ পর্ব। ‘সি’ গ্রুপে ফর্টিসের প্রতিপক্ষ ভারতের এফসি গোয়া, তাজিকিস্তানের এফসি রেগার-তাদাজ ও স্বাগতিক কুয়েতের আল-কাদসিয়া এফসি। মুরাসের বিপক্ষে জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে সেই জয়কে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে চান না ফর্টিসের কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার। তার লক্ষ্য আরও বড়-গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক ভালো খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। আগামী ১৭ই অক্টোবর স্বাগতিক আল-কাদসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের অভিযান শুরু করবে ফর্টিস। তার আগে গতকাল ক্লাব ভবনে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের লক্ষ্য জানিয়ে কোচ বলেন, ‘আমরা কুয়েতে শুধু অংশ নিতে যাচ্ছি না, ছুটি কাটাতেও যাচ্ছি না।
আমাদের পুরো দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, শুধু ফর্টিসকে নয়। আমরা পরের রাউন্ডে উঠতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বাংলাদেশের ফুটবল আরও উঁচু পর্যায়ে যাওয়ার যোগ্যতা রাখে। ইনশাআল্লাহ, আমাদের দল সেই লক্ষ্য পূরণে প্রস্তুত।’ মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয়কে আত্মবিশ্বাসের উৎস হিসেবে দেখছেন কায়সার। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করতে হলে দলকে প্রতিটি বিভাগেই উন্নতি করতে হবে
বলে মনে করেন তিনি। কোচ বলেন, ‘মুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটি এখন ইতিহাস। ওই জয় খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করেছে-পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারলে তারা যেকোনো দলকে হারাতে পারে। তবে একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখলেই হবে না। আক্রমণ, রক্ষণ, ট্রানজিশন ও সেট পিস-প্রতিটি বিভাগে ভুল কমাতে হবে। আমাদের আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে।’ এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগে খেলার সুযোগ পাওয়ার পরও ফর্টিসের প্রস্তুতির পথটা সহজ ছিল না। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে তৃতীয় হওয়া দলটি শুরুতে এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। বসুন্ধরা কিংস আবাহনীর ক্লাব লাইসেন্সিং-সংক্রান্ত সমস্যায় সুযোগ পেয়ে যায় তারা।
তবে সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই প্রস্তুতি শুরু করে ক্লাবটি। কোচ জানান, এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগে খেলার নিশ্চয়তা পাওয়ার সময় ফর্টিসের নিয়মিত সাতজন খেলোয়াড় অন্য ক্লাবে চলে যান। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে দল সাজাতে হয়েছে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দল গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে তারা। কায়সার বলেন, ‘আমরা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চেয়েছি। এএফসি চ্যালেঞ্জ লীগের মান স্থানীয় লীগের চেয়ে অনেক উঁচু। তাই বিদেশি খেলোয়াড় নিয়েছি এবং সবাইকে একসঙ্গে দল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা, কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়েরা আমাকে সহযোগিতা করেছে।’ গ্রুপের তিন প্রতিপক্ষকেই সমীহ করছেন ফর্টিস কোচ। তাঁর মতে, এই পর্যায়ে আসা প্রতিটি দলই ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। তবে পরের রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে প্রথম দুই ম্যাচকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি। ফর্টিসের হয়ে টানা পাঁচ মৌসুম খেলা নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর বাবুও আশাবাদী। বাংলাদেশে নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম আসার পর কিছুটা কঠিন সময় গেছে। তবে ফর্টিস আমাকে নিজের ছেলের মতো গ্রহণ করেছে। ক্লাবের সভাপতি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কোচিং স্টাফ ও সতীর্থেরা সব সময় আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। এখন বাংলাদেশে খেলাটা আমার কাছে অনেক সহজ। এখানে টানা পাঁচ মৌসুম খেলছি, তাই লীগ ও দলগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা আছে।’ শুধু টুর্নামেন্টে অংশ নেয়াই নয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও অনুভব করছেন বাবু। ফর্টিসের হয়ে ভালো খেলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবলের নাম উজ্জ্বল করতে চান তিনি।
