ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নতুন করে হামলার হুমকির মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর স্কুলগুলোতে অনলাইনে পাঠদান চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এর এক দিন আগে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টাও আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কিনা, তা তিনি বিবেচনা করছেন। এমন পদক্ষেপ নেয়া হলে হুতিরা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। এতে পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিমানবন্দর বন্ধ, অনলাইনে ক্লাস
রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানীর স্কুলগুলোতে সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস চলবে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের বিমানবন্দরের চলমান বন্ধের মেয়াদ রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত শনিবারের হামলার দায় হুতিরা স্বীকার করেনি। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিমান সংস্থা, বিশেষজ্ঞ, কর্মী ও যাত্রীদের সতর্ক করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বলেন, এসব স্থান হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং হুতিদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। তবে মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দরকে এই সতর্কতার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সৌদি বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরাক, লেবানন ও সিরিয়াসহ কয়েকটি আরব দেশ। নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনও।
রোববার এক্সে দেয়া পোস্টে ফন ডার লিয়েন বলেন, ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা অঞ্চলটিকে সহিংসতার চক্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে।
