থমথমে দিল্লি

থমথমে দিল্লি

ফন্ট সাইজ:

অবরুদ্ধ নয়াদিল্লি, নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থিদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে আট হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এনডিটিভি’র প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, শনিবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এ ছাড়া তাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও কর্মীদেরকেও আটক করা হয়েছে।

এর আগে সিজেপি’র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরবর্তীতে সিজেপি’র এক্স একাউন্টে অভিজিৎ দীপকের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, আপনারা এই ভিডিও দেখছেন মানে আমি, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা তিনজনেই গ্রেপ্তার হয়েছি। এবার এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন আজিঙ্কা শিন্ডে।

এদিন শনিবার সকালেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করা হয়। পাশাপাশি দুপুরে হঠাৎই আটক করা হয় এবারের আন্দোলনের আলোচিত মুখ ও বামপন্থি ছাত্র-নেত্রী নেহা বোরাকে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এদিন সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকে আটক করা হলেও পরবর্তীতের তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কয়েক জায়গায় কয়েকজন সাংবাদিককেও আটক করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া একাধিক জায়গায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে। এদিকে, দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর ‘যুদ্ধকালীন মোতায়েনকে’ লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শশী থারুর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়া হয়েছে।’ এ ছাড়া ভারতের বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সিজেপি’র বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হলেও তারা পিছু হটবেন না।
রাহুল বলেন, সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে রেখেছি, পিছু হটবো না।

সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক দিল্লির এই পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’- হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়ে বলেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল বিক্ষোভকারীকে ছেড়ে দেয়া না হলে তিনি আবার অনশন শুরু করবেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক লিদিয়া পলগ্রিন বলেছেন, দিল্লির রাস্তাজুড়ে পুলিশি তাণ্ডব চলছে। এক্সে তিনি লিখেন, পুলিশ রাস্তায় যাকে পাচ্ছে, তাকেই ধরে বাস ও পুলিশের ভ্যানে তুলে নিচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। এরপরেও কেউ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাকে আটক আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি জুড়ে ৩৫ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এদিন স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

বিবিসি’র লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরে বড় জমায়েতের প্রত্যাশা নিয়ে দিন শুরু হলেও সেখানে পৌঁছাতে পেরেছেন হাতেগোনা কয়েকজন বিক্ষোভকারী। দ্রুত তাদেরকেও সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, এমন উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশটির সাবেক ১২৪ জন আমলা ও কূটনীতিক। এক খোলা চিঠিতে তারা বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলতে হলে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণহীন অভিযোগ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করে।

চিঠিতে তারা লিখেছেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। প্রমাণ ছাড়াই এখন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিটি অভিযোগ সবার গণতান্ত্রিক আস্থায় আঘাত হানে।’
সর্বশেষ, সিজেপি এক বিবৃতিতে তাদের নেতাদের আটকের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছে। দলটি বলেছে, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতে বাধা দিতেই পরিকল্পিতভাবে আমাদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনাকে চলাচলের স্বাধীনতার লঙ্ঘন উল্লেখ করে আটক নেতাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।
সেইসঙ্গে দিল্লিতে লকডাউন সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে সিজেপি।