উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ২৬

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ফন্ট সাইজ:

আশার কথা হলো, উপনিবেশোত্তর এই স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোতে জনগণের সর্বাঙ্গীণ মুক্তিপ্রয়াসী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, নানা আকার ও প্রকারে, এখনো জারি রয়েছে।
সাত
আমাদের আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা ব্রিটিশ উপনিবেশোত্তর ভারত ও পাকিস্তানে, এবং পরবর্তীকালের স্বাধীন বাংলাদেশে, আমাদের বাংলাভাষার রাজনৈতিক মর্যাদা নিয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করবো। বাংলাভাষী মানুষমাত্রই অবগত যে, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার সময়, ১৯৪৭ সালে, অখণ্ড ভারতবর্ষের রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ভারতের বাংলাভাষী বাংলা প্রদেশও বিভক্ত হয়ে যায়। ভারতবর্ষের বাংলাভাষী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দ্বিধাবিভক্তির পেছনেও উপনিবেশবাদী বিভক্তিমূলক রাজনীতি সক্রিয় ছিল।
১৯৪০-এর দশকে ভারতবর্ষে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চরম বিকাশের প্রেক্ষাপটে, ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পূর্ববাংলার মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলমান কৃষক, সাধারণভাবে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভারতীয় মুসলিম লীগের পক্ষাবলম্বন করে। পূর্ববাংলার মানুষের মুসলিম লীগ সমর্থনের পেছনে যতটা না ধর্মীয় পক্ষপাত সক্রিয় ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল সামাজিক-অর্থনৈতিক উপাদান। কেননা, এই অঞ্চলের অধিকাংশ জমিদার ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, আর তাঁরা সকলেই কংগ্রেসের রাজনৈতিক পতাকাতলে সংঘবদ্ধ হয়েছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, ‘বস্তুত কংগ্রেস কোথাও জমিদারি উচ্ছেদের চেষ্টা করেনি’।২২৮ তাছাড়া, বাংলায় কংগ্রেস যখন শোষণ-নিপীড়নের প্রতীক জমিদার শ্রেণিকে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া জোগায়, বাংলার মুসলিম লীগ তখন জমিদারি-ব্যবস্থা উচ্ছেদ করার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে। এমতাবস্থায়, এই ঐতিহাসিক নির্বাচনটি শোষক ও শোষিতের ভেতর রাজনৈতিক সংগ্রামে পরিণত হয়েছিল; আর কংগ্রেস ও লীগের সেই নির্বাচনী সংগ্রামে পূর্ববঙ্গের যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের (১৯০৪-১৯৬৮) নেতৃত্বাধীন ‘তফসিলি ফেডারেশনভুক্ত’ বাংলার নিম্নবর্ণের হিন্দু জনগোষ্ঠী, যাঁরা গরিব মুসলমান কৃষকের মতোই জমিদারি শোষণ-নিপীড়নের শিকার ছিলেন, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগের সঙ্গে এক কাতারে সমবেত হয়। এই নির্বাচনে মুসলিম লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে, যা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাক্লিষ্ট ভারতবর্ষে সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমি হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে এবং পরের বছরেই প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার দূরত্ব দিয়ে বিভক্ত ভারতবর্ষের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও বাংলাভাষী উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে গঠিত পাকিস্তানের অভ্যুদয় ঘটেছিল। পশ্চিম বাংলার বাংলাভাষী হিন্দু জনগোষ্ঠী জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশ হিসেবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত থাকে। এভাবেই, বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় দুই দেশে বিভক্ত হয়ে পড়ে, আর বাংলাদেশের এই সাম্প্রদায়িক-রাজনৈতিক বিভক্তির সঙ্গে বাংলাভাষাও দ্বিধাবিভক্তি-কবলিত হয়ে- দু’টি ভিন্ন ধারায় বিকশিত হতে থাকে। সে এক লম্বা ইতিহাস। আমরা এখানে খুব সংক্ষেপে বিষয়টির ওপর আলোকপাত করতে পারি।
কোনো জনগোষ্ঠীর ‘ভাষা’ ওই জনগোষ্ঠীভুক্ত মানুষদের ভেতর পারস্পরিক ভাব বা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যম মাত্র নয়, বরং ওই ভাষাটি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীটির সামগ্রিক জ্ঞানচর্চা ও তার মাধ্যমে জ্ঞানেন্দ্রিক বিকাশের অবিচ্ছেদ্য পরিসর হিসেবে বিদ্যমান থাকে। তাছাড়া, ফ্রাঞ্জ ফানো যেমন বলেছেন, “কোনো ভাষায় কথা বলা মানেই সেই ভাষার সহজাত ‘বাক্যরীতি’ ব্যবহারে অর্জিত দক্ষতা, ভাষাটির ‘রূপমূল তত্ত্ব’ আত্মস্থ করার সামর্থ্য। সর্বোপরি, ভাষাটির ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সংস্কৃতিকে ধারণ করা, একটি ঐতিহাসিক সভ্যতার ক্রমবিকাশে শক্তি জুগিয়ে চলা।”২২৯
ফলে, কোনো মানুষকে তার ভাষা থেকে বঞ্চিত করার অর্থ হলো তাকে অনেকগুলো মানবীয় গুণ ও সামর্থ্য থেকে, তার ভাষায় ধারণকৃত তার জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতা থেকে, বঞ্চিত করে একটি ছিন্নমূল রিক্ত প্রাণীতে পরিণত করা। আবার, অন্যভাবে বললে, একটি ভাষার বিলুপ্তি মানে হলো, একটি জনগোষ্ঠীর জ্ঞানচর্চা ও জ্ঞানেন্দ্রিক ক্রমবিকাশ প্রক্রিয়ার বিলুপ্তি সাধন- একটি সভ্যতারই ধ্বংসসাধন। আর, এ কারণেই ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ পৃথিবীর সর্বত্র তাদের উপনিবেশিত অঞ্চলের স্থানীয় ভাষাগুলোকে ধ্বংস করার সচেতন প্রয়াস গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে- উপনিবেশিত অঞ্চলের ভাষার ধ্বংসযজ্ঞের ওপর নিজেদের ভাষার পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠার, নিদেনপক্ষে নিজেদের ভাষিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার, ভেতর দিয়ে উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীসমূহের ওপর সংশ্লিষ্ট ঔপনিবেশিক শক্তির চূড়ান্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই ছিল যে পদক্ষেপের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে, বাংলা প্রদেশ থেকে ব্রিটিশদের উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ তার উপনিবেশগুলোর শুধু রাজনীতি ও অর্থনীতির উপনিবেশায়ন করেই ক্ষান্ত থাকতে পারে না, উপনিবেশের ওপর সার্বিক ও পরিপূর্ণ আধিপত্য কায়েমের জন্য তার ভাষা ও সংস্কৃতিরও উপনিবেশায়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজন পড়ে। আর সেই প্রক্রিয়ায়, ইউরোপের ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এশিয়া ও আফ্রিকার বহু উপনিবেশে স্থানীয় ভাষার রীতিমতো বিলুপ্তি সাধনে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ঔপনিবেশিক ইংরেজের নিজস্ব ভাষার প্রবল চাপেও, নানা কারণে, বাংলা ভাষা বিলুপ্তির পথে অগ্রসর হয়নি। প্রথমত, এ অঞ্চলে প্রায় দু’শ বছর ধরে বহু মানুষের প্রায়োগিক চর্চার মধ্যদিয়ে ভাষা হিসেবে বাংলা, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন শুরুর পূর্বেই, নিজেকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছিল। তাছাড়া, বাংলায় চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত সুলতানি শাসনামলে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষা সমৃদ্ধি ও সংবদ্ধতা অর্জন করেছিল। বাংলাভাষাবিদদের মতে, “ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে বাংলা ভাষা ও ছন্দের আদর্শ বা মান নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল।”২৩০
তাছাড়া, বাংলায় পাঠান শাসনামলে, ষোড়শ শতাব্দীতে, ‘বাংলাভাষা রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হয়েছে’।২৩১ এভাবে, উপনিবেশবাদী ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই বাংলা ভাষা- কি কথ্য, কি লেখ্য- তার অন্তর্নিহিত শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠার কারণে, ইংরেজি ভাষার প্রচণ্ড অভিঘাত সত্ত্বেও, আপন মহিমায় টিকে থাকতে সমর্থ হয়েছে। তবে, ভাগ্যান্বেষণে ভারতে আসা কতিপয় ব্রিটিশ নাগরিক, যেমন ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালেড (১৭৫১-১৮৩০), যিনি ছিলেন বাংলায় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, জন বোরথউইক গিলক্রিস্ট (১৭৫৯-১৮৪১), একজন স্কটিশ যিনি ভারতে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির স্বাস্থ্য বিভাগে ‘সহকারী সার্জন’ হিসেবে চাকরি করার সময় ‘হিন্দুস্তানী’ ভাষা নিয়ে গবেষণা করেন এবং পরবর্তীকালে, ভারতে নীল ও আফিম চাষের ব্যবসায় সাফল্য লাভে ব্যর্থ হওয়ার পর, কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত অবস্থায়, ১৭৯৬ সালে, ইংরেজিতে হিন্দুস্তানী ভাষার একটি ব্যাকরণ- অ্যা গ্রামার অব্‌ দ্য হিন্দুস্তানী ল্যাঙ্গুয়েজ- রচনা করেন; উইলিয়াম জোনস্‌ (১৭৪৬-১৯৯৪), যিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক হিসেবে বাংলায় এসেছিলেন এবং দীর্ঘদিন রয়্যাল সোসাইটি অব্‌ বেঙ্গলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন, ব্যাপটিস্ট খ্রিষ্টান পাদ্রী উইলিয়াম কেরি (১৭৬১-১৮৩৪), যিনি খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের জন্য ভারতে এসেছিলেন ও একজন হিন্দু, ‘মুনশির’ সহযোগিতায় বাংলা শিখে বাইবেলের ‘নতুন নিয়মের’ বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীকালে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন প্রমুখ যাঁরা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাংলাসহ নানা ভারতীয় ভাষার উদ্ভব ও বিকাশের ধারা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন এবং পরে ভাষাবিদ বা ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে অন্যায্য খ্যাতি ভোগ করেছেন, তাঁদের নানা বিভ্রান্তিমূলক উপনিবেশবাদী তৎপরতার কারণে ভারতের অন্যান্য কতিপয় ভাষার মতো বাংলাও বেশ কিছু মৌলিক কাঠামোগত বিকৃতির শিকার হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, ভারতে কর্মরত ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী ভাষাবিদদের হস্তক্ষেপের কারণে বাংলা ভাষার কাঠামোগত উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে, উনিশ শতকের তৃতীয় দশকে, বাঙালি ভাষাবিদ ও সাহিত্যিকদের একাংশ, বিশেষত শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৯২৮), প্রতিরোধমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে, ‘উপনিবেশিত বাংলায় ভাষার সংকট থেকে মুক্তির’ সংগ্রামে, অর্থাৎ বাংলা ভাষার বিকাশে স্বাতন্ত্র্য ও স্বায়ত্তশাসন জারি রাখার প্রয়াসে, ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের অভিভাবকত্বে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী নেতৃত্ব দেন’।২৩২
সেই সংগ্রাম বহুলাংশেই ফলপ্রসূ হয়েছিল বৈকি, কিন্তু বাংলাভাষা ঔপনিবেশিকতার প্রভাব থেকে মুক্তি লাভ করতে সমর্থ হয়নি।
যাই হোক, এখন বাংলাসহ ভারতের তাবৎ ভাষাসমূহের উৎপত্তি সংক্রান্ত হ্যালেডের বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্তের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যাক। হ্যালেড তাঁর ইংরেজি ভাষায় রচিত এবং ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থের- অ্যা গ্রামার অব্‌ দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ- ভূমিকায় দাবি করেছেন যে, “ভারতীয় ভাষাগুলো তো বটেই, পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে চীন সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত গোটা অঞ্চলের প্রায় সকল জনগোষ্ঠীর ভাষারই মূল উৎস হলো সংস্কৃতি ভাষা।”২৩৩
তারপর তিনি ভারতের ‘হিন্দুস্তানী’ ভাষার উৎস সম্পর্কে দাবি করেন যে, “হিন্দুস্তানের সকল সদরে যুগের পর যুগ ধরে ব্যবহৃত ‘হিন্দুস্তানিক’ ভাষাটি নিঃসন্দেহে সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত হয়েছে।”২৩৪

তথ্যসূত্র:
২২৮. অমলেশ ত্রিপাঠী, স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫-১৯৪৭), পৃষ্ঠা: ২২৪
২২৯. Frantz Fanon, Black Skin White Masks, p. 17-18

২৩০. আনিসুজ্জামান, পুরনো বাংলা গদ্য, পৃষ্ঠা : ৪৯
২৩১. মোহাম্মদ আজম, বাংলা ভাষার উপনিবেশায়ন ও রবীন্দ্রনাথ, আদর্শ, ঢাকা, ২০১৪, পৃষ্ঠা : ১৩০
২৩২. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা : ২৭
২৩৩. Nathaniel Brassey Halhad, A Grammar of the Bengal Language, Preface, p. 111

২৩৪. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ix