উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ২৫

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ফন্ট সাইজ:

তাছাড়া, উভয় দেশেই বিভিন্ন ভাষাভিত্তিক প্রদেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট ভাষাসমূহকে প্রাদেশিক ‘অফিসিয়াল’ ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ভারত ও পাকিস্তানে যথাক্রমে হিন্দি ও উর্দুর দ্বিতীয় প্রধান ‘অফিসিয়াল’ মর্যাদালাভ কতোটা অগণতান্ত্রিক ছিল, তা বোঝার জন্য স্মরণ করা যেতে পারে যে, ইংরেজির পরেই হিন্দির ‘অফিসিয়াল’ ভাষার মর্যাদা লাভের সময়, বিশাল ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মাত্র ২২ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা ছিল হিন্দি। অন্যদিকে, ইংরেজির পর উর্দুকে দ্বিতীয় প্রধান ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার সময়, ১৯৪৮ সালে, পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার চার শতাংশেরও কম মানুষের মাতৃভাষা ছিল উর্দু। এহেন বাস্তবতায় ভারতে হিন্দিকে আর পাকিস্তানে উর্র্দুকে কেন্দ্রীয় ‘অফিসিয়াল’ ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার কারণ হলো, স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী প্রভাবশালী রাজনীতিকদের অধিকাংশের মাতৃভাষা ছিল যথাক্রমে হিন্দি ও উর্দু। আর, উভয় দেশেই ইংরেজিকে প্রধান অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার কারণটি এই অধিপতি রাজনৈতিক শ্রেণিটির ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শিক্ষা ও দীক্ষার ভেতর নিহিত ছিল।

এটা শুধু উপনিবেশোত্তর ভারতবর্ষেরই বৈশিষ্ট্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রধানত সিংহলা-ভাষী দেশ শ্রীলঙ্কার উপনিবেশবাদী ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও ফলাফলও প্রায় অভিন্ন। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি ১৭৯৬ সাল থেকে ১৮১৫ সালের মধ্যে গোটা শ্রীলঙ্কাকে নিজেদের ঔপনিবেশিক শাসনাধীন করতে সক্ষম হয়েছিল। অপরাপর ব্রিটিশ উপনিবেশের মতো এখানেও ব্রিটিশ দখলদার শক্তি দ্রুততম সময়ে, ১৮৩৩ সালে, ইংরেজিকে শ্রীলঙ্কার প্রশাসনিক ও আদালতের ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে এবং ইংরেজিকে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসেবেও প্রবর্তন করে। এভাবে, দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর অঞ্চলের মতো, শ্রীলঙ্কায়ও ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাদানের মাধ্যমে একটি নতুন ‘শিক্ষিত’ সম্প্রদায় সৃষ্টি আর রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও আদালত ব্যবস্থায় এই সম্প্রদায়ের সদস্যদের চাকরির সংস্থান এবং নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগদানের মাধ্যমে, স্থানীয় পর্যায়ে একটি বিশেষ সুবিধাভোগী এলিট শ্রেণি তৈরি করে। এই শ্রেণিটি শ্রীলঙ্কায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তিকে শুধু রাজনৈতিকভাবেই টিকিয়ে রাখেনি, শ্রীলঙ্কার ‘ঐতিহ্যগত’ কৃষিব্যবস্থা ধ্বংস করে, কৃষকসমাজের প্রতিবাদের মুখেও, ব্রিটিশ স্বার্থে চা, কফি ও রাবার চাষের মাধ্যমে প্রবর্তিত উপনিবেশবাদী আবাদি অর্থনীতির বিকাশেও সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করে।

যা-ই হোক, ১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কা স্বাধীনতালাভের সময়, কিংবা আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ব্রিটিশের অধীনে ‘স্বায়ত্তশাসিত অধিরাজ্যে’র মর্যাদালাভের সময়, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় বিকশিত ইংরেজি শিক্ষিত এই সিংহলি ‘জাতীয়তাবাদী’ শ্রেণিটিই লঙ্কার শাসনক্ষমতা লাভ করে। স্বভাবতই, এই শ্রেণিটির নিয়ন্ত্রণাধীন উপনিবেশোত্তর শ্রীলঙ্কার অফিসিয়াল ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষাই অব্যাহত থাকে। এমতাবস্থায়, সিংহলা-ভাষী শ্রীলঙ্কার জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের তরফে সংঘটিত একটি ব্যাপক ‘স্বভাষা আন্দোলনের’ পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৫৬ সালে, ইংরেজির প্রভাব-প্রতিপত্তি অক্ষুণ্ন রেখেই, সিংহলাকে শ্রীলঙ্কার ‘অফিসিয়াল ভাষা’ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

সিংহলা ভাষার এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভের পরিপ্রেক্ষিতে, শ্রীলঙ্কার জনগণের অবশিষ্ট প্রায় ৩০ শতাংশ তামিলভাষী মানুষও তাঁদের ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ হলে, ১৯৫৮ সালে, তামিলকেও সীমিত পরিসরে ‘অফিসিয়াল’ ভাষার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। তবে, সিংহলা ও তামিলভাষী জনগোষ্ঠীসমূহের ভেতর ‘ভাষিক সংযোগ’ রক্ষার নামে, ইংরেজিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘লিংক ল্যাঙ্গুয়েজের’ মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, উপনিবেশোত্তর ভারত ও পাকিস্তানের মতো, এমনকি পাকিস্তানি শাসন-শোষণের শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালে বেরিয়ে আসা বাংলাদেশের মতোই, শ্রীলঙ্কার সমাজ ও রাষ্ট্রে, প্রশাসন ও আইন ব্যবস্থায় এখনো ইংরেজি ভাষার আধিপত্য বিদ্যমান রয়েছে। এই প্রপঞ্চের রাজনৈতিক, তাৎপর্য হলো, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের গর্ভে সৃষ্ট, তারই ছত্রচ্ছায়ায় বিকশিত, ইংরেজি শিক্ষিত সংখ্যালঘু এলিট শ্রেণিটিই অদ্যাবধি শ্রীলঙ্কার ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলা ও তামিল জনগোষ্ঠীর ওপর নিজের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য জারি রেখেছে।

ভাষা ও শিক্ষানীতির প্রশ্নে আফ্রিকার উপনিবেশোত্তর দেশগুলোও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। কেনিয়ার কথাই ধরা যাক। কেনিয়া ১৯৬৩ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। কিন্তু স্বাধীন কেনিয়ায় ইংরেজিই প্রধান ‘অফিসিয়াল’ ভাষার মর্যাদা লাভ করে, আর কেনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা কিসওয়াহিলি/সোয়াহিলি দ্বিতীয় ‘অফিসিয়াল’ ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়, যা আজও অব্যাহত রয়েছে।

পরিহাসের ব্যাপার হলো, কেনিয়ার স্বাধীনতার কয়েক দশক পরেও কেনিয়ার পার্লামেন্ট সে দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণগুলোতে আফ্রিকার ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি আইন প্রণয়ন করে।২২২

সৌভাগ্যবশত, ‘আইনটি কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট অনুমোদন না করার কারণে বাস্তবে প্রয়োগ হতে পারেনি।’ প্রশ্ন হলো, আফ্রিকারই একটি স্বাধীন দেশের পার্লামেন্ট সদস্যরা কী করে আপন দেশের রাষ্ট্রীয় পরিসরে আফ্রিকারই ভাষা ব্যবহারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন? নগুগি তা ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, “ইতিহাসের পরিহাস এই যে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকে উৎখাত করার জন্য আফ্রিকানভাষী শ্রমজীবী শ্রেণি [কেনিয়ার] পাহাড় ও রাস্তায় নিজেদের সংগঠিত করে সফল সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিল বলেই এই পার্লামেন্ট গঠিত হতে পেরেছিল। কিন্তু এই পার্লামেন্ট আফ্রিকার বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষদের ভেতর নিজের মূলগত ভিত্তি খুঁজে পায়নি, বরং ইংরেজি ও অন্যান্য ইউরোপীয় ভাষাকেই তার ক্ষমতার উৎস হিসেবে বিবেচনা করেছে।”২২৩
অর্থাৎ, স্বাধীন কেনিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতার রজ্জু সে দেশের ঔপনিবেশিক আমলে গড়ে ওঠা ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির হস্তগত হয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীকালেও অব্যাহত থাকে। ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও প্রায় অভিন্ন ঘটনাই ঘটেছিল, আর সে কারণে এ অঞ্চলেও তার অভিন্ন ফলাফল দৃশ্যমান হয়।
প্রসঙ্গত, এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে, এশিয়া ও আফ্রিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশগুলোর স্বাধীনতাসংগ্রাম শক্তিমান হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ উপনিবেশগুলো সম্ভাব্য স্বাধীনতা অর্জনের পরেও ওই দেশগুলোতে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য জারি রাখার কৌশল হিসেবে স্বাধীনতা-পূর্ব কালের শিক্ষা ও ভাষানীতি টিকিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল।

এ প্রসঙ্গে ফরাসি ঔপনিবেশিক শিক্ষাসংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সহ-সভাপতি ও আলিয়ঁস ফঁসেজের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পিয়ের ফঁস্যার দূরপ্রসারী কৌশলের উদাহরণ পেশ করা যেতে পারে। ফঁসা ফরাসি ‘ঔপনিবেশিক শিক্ষার জাতীয় উদ্দেশ্য’ সম্পর্কে পূর্বাহ্ণেই, ১৯০০ সালে, বলেছিলেন, “ফরাসি উপনিবেশগুলোকে যদি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর করতেই হয়, তাহলে সাম্রাজ্যের কেন্দ্রের সঙ্গে উপনিবেশগুলোকে একটা শক্ত মনস্তাত্ত্বিক বন্ধনে আবদ্ধ করা প্রয়োজন। কারণ, যেদিন উপনিবেশগুলো তাদের প্রগতিশীল মুক্তির ভেতর দিয়ে একটি সম্ভাব্য ফেডারেশনে সংঘবদ্ধ হবে, সেদিনও তারা যেন ভাষা, চিন্তা ও চেতনার দিক থেকে ফরাসিই থেকে যায়।”২২৪

তদুপরি, উপনিবেশোত্তর স্বায়ত্তশাসিত বা স্বাধীন দেশগুলোতে ফরাসি প্রভাব জারি রাখার জন্য ‘আলিয়ঁস ফঁসেজ’ প্রতিষ্ঠা ও তা সক্রিয় রাখার রাজনৈতিক প্রকল্প তো ছিলই।

উপনিবেশোত্তর স্বাধীন দেশগুলোতে আপন সাংস্কৃতিক আধিপত্য জারি রাখার জন্য ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির দিক থেকেও অভিন্ন প্রকল্প সক্রিয় ছিল। ব্রিটিশ ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত’ ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘লক্ষ্য’ সম্পর্কে তার ১৯৪০-১৯৪১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, “ব্রিটেনের জনগণ, তাঁদের দর্শন ও জীবনপদ্ধতি সম্পর্কে বিদেশে বন্ধুত্বপরায়ণ জ্ঞান ও বোঝাপড়ার ভিত্তি তৈরি করা ব্রিটিশ কাউন্সিলের লক্ষ্য, যার মাধ্যমে ব্রিটেনের বিদেশনীতি সম্পর্কে, তা যা-ই হোক না কেন, বা যে কারণেই প্রণীত হোক না কেন, বিদেশে একধরনের সহানুভূতিমূলক সমর্থন সৃষ্টি করবে”।২২৫
আবার, ১৯৮৪-৮৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, “ব্রিটিশ কাউন্সিলের [...] কাজ হলো সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহায়তাদানের মাধ্যমে পৃথিবীর অপরাপর দেশগুলোর ভেতর ব্রিটেন সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি বোঝাপড়া ও ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টিতে অবদান রাখা।”২২৬

ব্রিটিশ কাউন্সিলের নিজস্ব পরিভাষায় এই ‘বোঝাপড়া’ সৃষ্টির আসল অর্থ হলো, “বিদেশে ব্রিটেনের তরফে ভালো বন্ধু সৃষ্টি করা আর বিদেশিদের ব্রিটিশপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলা।”২২৭ বলার অপেক্ষা রাখে না, এশিয়া ও আফ্রিকায় ইউরোপের প্রাক্তন উপনিবেশগুলোতে তাদের স্বাধীনতার পরেও পুরনো উপনিবেশবাদী নীতিসমূহ কার্যকর ছিল, বহু দেশেই এখনো কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ উপনিবেশগুলো ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন হলেও, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শাসকশ্রেণি ও তাদের প্রভাবাধীন সমাজ ও রাষ্ট্রসাংস্কৃতিক স্বাধীনতালাভে ব্যর্থ হয়— যার কুফল হিসেবে ‘স্বাধীন’ দেশগুলোর জনগোষ্ঠীর কাছে যথার্থ রাজনৈতিক মুক্তি বহুলাংশে অধরাই থেকে যায়। উপনিবেশোত্তর ভারতবর্ষে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তানে ঔপনিবেশিক আইনকানুন ও প্রশাসন ব্যবস্থাসহ ঔপনিবেশিক ভাষা ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রবল প্রতাপ এবং তাদের পাশাপাশি উভয় দেশেই ঔপনিবেশিক-শাসন-সৃষ্ট দু’টি স্থানীয় প্রভাবশালী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা হিন্দি ও উর্দুর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ভেতরই এই অঞ্চলের বৃহত্তর ভাষিক জনগোষ্ঠীসমূহের সাংস্কৃতিক তথা রাজনৈতিক মুক্তিহীনতা মূর্তিমান রয়েছে।


তথ্যসূত্র:
২২২. Ngugi Wa Thiongo, Between Enlavement and Emponments Decoloniæing Language and Other Revolutionary Ideas, p. ৩০
২২৩. প্রাগুক্ত
২২৪. Eric Ashby, Universities: British, Indian, African: A Studz in the Ecology of Higher Education, p. 365; Also in Walter Rodney, Hwo Europe Underdeveloped Africa, p. ৩১৭
২২৫. Robert Phillipson, Linguistic Imperialism, p. 139
২২৬. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ১৪০
২২৭. প্রাগুক্ত