নোবেলজয়ীকে ‘কেউ চেনেন না’, নরওয়েকে হুঁশিয়ারি

পিল্লাইকে ট্রাম্পের কটাক্ষ

নোবেলজয়ীকে ‘কেউ চেনেন না’, নরওয়েকে হুঁশিয়ারি

ফন্ট সাইজ:

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাইকে কটাক্ষ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার হিসাব অনুযায়ী, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তারই (ট্রাম্প) পাওয়া উচিত। কিন্তু নোবেল কমিটি পুরষ্কারের জন্য বেছে নিয়েছে নাভি পিল্লাইকে। এ জন্য পিল্লাইকে আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি (পিল্লাই) জাতিসংঘে কাজ করা একজন উদারপন্থি ব্যক্তি। তাকে কেউ চেনেন না। গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজ্ঞ। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের সিরাকিউজে রিপাবলিকান পার্টির এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

আগামী ৩রা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছে এমন একজনকে, যার নাম আমি কখনো শুনিনি। অন্য কেউও শোনেনি। তিনি এক রহস্যময় ব্যক্তি। এরপর অবশ্য তিনি যোগ করেন, তারপরও অভিনন্দন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু। ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাতের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই আটটি যুদ্ধের যেকোনো একটির জন্যই নোবেল পুরস্কার পাওয়া যায়। আমি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। কোনো প্রেসিডেন্টই এমনটা করেননি। এরপর নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটি এবং যে দেশ থেকে কমিটিটি পরিচালিত হয়, সেই নরওয়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার প্রতিনিধিত্বে আমেরিকারই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি। এটি নরওয়ের জন্য এক অমোচনীয় কলঙ্ক।

ট্রাম্পের দাবি, গণতন্ত্রবিরোধী এবং প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার শত্রু এমন একদল উগ্র মতাদর্শীর কারণে এই পুরস্কার চিরতরে তার মর্যাদা হারিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নরওয়েকে ভুলব না। তার দাবি, পুরস্কার না পাওয়ার ঘটনা ‘নরওয়ে এবং অন্যরা কীভাবে আমাদের দেশকে ঠকিয়ে যাচ্ছে, তার আরেকটি প্রমাণ’। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, এই নারী সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না, অন্য কেউও জানে না! প্রকৃতপক্ষে, আমার জানা মতে, ইসরাইলকে ঘৃণা করেন। এ বিষয়টি ছাড়া আর কেউই তার সম্পর্কে কখনো শোনেনি। নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল দাবি করে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার গণতন্ত্রবিরোধী এবং সভ্যতার শত্রু, এমন একদল উগ্র মতাদর্শীর কারণে চিরতরে তার মর্যাদা হারিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য বলে নিজের দাবি জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। এ পর্যন্ত তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়নি।

এ নিয়েও বারবার সমালোচনা করেছেন তিনি। নাভি পিল্লাই রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিল্লাই। ওই কমিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, গাজা উপত্যকায় ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে। তবে ইসরাইল এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। নোবেল কমিটি বলেছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের উদ্যোগে পিল্লাই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার কাজ আন্তর্জাতিক আইনের প্রভাব ও পরিসর বাড়িয়েছে।