চলে গেলেন নানা পাটেকর

চলে গেলেন নানা পাটেকর

ফন্ট সাইজ:

মৃত্যুর চারদিন আগে নানা পাটেকর বলেছিলেন, একদিন সবাইকে চলে যেতে হবে। কাল আমি এখানে থাকবো কিনা, জানা নেই। প্রতিটি মানুষের জীবন চূড়ান্ত পরিণতিতে পৌঁছাবে। ঠিক চারদিন বাদে অর্থাৎ গতকাল ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নিজের কথাগুলোর মতো করেই অবশেষে চূড়ান্ত পরিণতিতে পৌঁছে গেলেন ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে গোয়ার একটি হাসপাতালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নানা এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। রাত হওয়ায় বন্ধুটি তখন বার্তাটি দেখতে পারেননি।

পরে ফোনে যোগাযোগ করেন তিনি। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বন্ধু ভোর ৪টার দিকে নানার বাড়িতে পৌঁছান। তখন অভিনেতার শরীর ঘামছিল। প্রাথমিকভাবে তাকে সামলানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই নানা ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাতে থাকেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। জরুরি চিকিৎসা দল নানার বাড়িতে পৌঁছে হৃদ্যন্ত্র সচল করার জন্য কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দেয়। কিন্তু তার কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। চিকিৎসক জানান, ভোর ৪টা ২০ থেকে ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তাকে মণিপাল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ধরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসক। নানা পাটেকরের মৃত্যুতে ভারত তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার, রিতেশ দেশমুখ, কঙ্গনা রানাউয়াত প্রমুখ। মৃত্যুর আগে বড় পর্দায় নানার শেষ সিনেমা ছিল বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত ‘ও রোমিও’। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এতেও নানার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।

মূলত নিজের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, দরাজ কণ্ঠ ও ভিন্নধর্মী অভিনয় ও সংলাপের কারণে বিশেষভাবে পরিচিত নানা পাটেকর। ১৯৫১ সালের ১লা জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেন নানা পাটেকর। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এ অভিনেতার ১৯৭৮ সালের ‘গামন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে একে একে অভিনয় করে গেছেন অসংখ্য সিনেমায়। নানা পাটেকর ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পেয়েছিলেন। নানা পাটেকরের স্ত্রী নীলাকান্তিও একজন অভিনেত্রী। তবে ৩৫ বছর ধরে আলাদা থাকলেও তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। তাদের মালহার পাটেকর নামে এক পুত্র রয়েছেন।