কানাডীয় কবি ও লেখক অ্যান কারসন এবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা সুইডিশ একাডেমি এ ঘোষণা দিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘সাহসী ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে খেলাচ্ছলে সংলাপ করে সমকালীন সাহিত্যের নতুন রূপ সৃষ্টি করার জন্য’ কারসনকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। পুরস্কারটির অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান।
কবিতা ও প্রবন্ধের পাশাপাশি কারসনের লেখায় গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদের মিশেল দেখা যায়। ফলে প্রচলিত সাহিত্যধারার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিজস্ব একটি শৈলী তৈরি করেছেন তিনি।
ধ্রুপদি গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদের জন্যও ব্যাপকভাবে পরিচিত কারসন। গ্রিক সাহিত্য তার সৃষ্টিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার কাজের পরিসর অপেরার গীতিনাট্য থেকে সাহিত্য সমালোচনা এবং কবিতার উপন্যাস পর্যন্ত বিস্তৃত।
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোগ্রাফি অব রেড’ তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি।
তার স্বতন্ত্র লেখনিশৈলীর আরেকটি উদাহরণ ‘নরমা জিন বেকার অব ট্রয়’। ২০১৯ সালের এই পরিবেশনামূলক রচনায় ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের ট্রয়ের হেলেনের কাহিনির সঙ্গে হলিউড অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর জীবনকাহিনিকে মিলিয়ে দেয়া হয়েছে।
সাহিত্যে নোবেলজয়ীদের দীর্ঘ তালিকায় এবার যুক্ত হল কারসনের নাম। এর আগে এই পুরস্কার পেয়েছেন আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মুনরো ও আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিকরা।
তবে সাহিত্যে নোবেল নিয়ে বরাবরই বিতর্ক রয়েছে। গত ১২০ বছরে লিও তলস্তয়, ভার্জিনিয়া উলফ ও হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো সাহিত্যিকদের পুরস্কার না দেয়ায় সুইডিশ একাডেমির সমালোচনা হয়েছে। মার্কিন লেখকদের উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে।
যদিও ২০১৬ সালে মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল দেয়া হয়েছিল।
তবে একাডেমির সমর্থকদের যুক্তি, তারা অনেক সময় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সাহিত্যধারাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায়।
১৯৮২ সালে কলম্বিয়ার গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংকে পুরস্কার দেয়ার বিষয়টি এর উদাহরণ হিসেবে তারা তুলে ধরেন।
সুইডিশ ডিনামাইট উদ্ভাবক ও ব্যবসায়ী আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।
মার্কিন সমালোচক সুসান সন্টাগ তাকে ‘অ্যাপোক্যালিপসের মাস্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
