মারিয়া দেল কারমেন অ্যাবাসকাল। স্পেনের আবাসন সংকট ও মাত্রাতিরিক্ত বাড়িভাড়ার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রধান প্রতীক। ৮৭ বছর বয়সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। স্পেনের সাধারণ মানুষের কাছে ‘মারিকারমেন’ নামে পরিচিত এই বৃদ্ধাকে দীর্ঘ সাত দশক ধরে বসবাস করা মাদ্রিদের নিজস্ব অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সেই উচ্ছেদের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান।
বৃদ্ধা মারিকামেনের কাহিনী বেশ করুণ। একটি বিনিয়োগকারী সংস্থা তার অ্যাপার্টমেন্ট কিনে নেয়া। এরপর তার বাসা ভাড়া একলাফে ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। ভাড়া পরিশোধে অসমর্থ হওয়ায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে তাকে স্ট্রেচারে করে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সেই মর্মান্তিক দৃশ্য গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। উচ্ছেদের পর তীব্র শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি মারিকারমেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ধারণ করা এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে রাস্তায় থাকতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার সেই ভাগ্য নেই। তাই এখান থেকেই আমি আপনাদের সবাইকে সাহসী হতে এবং লড়াই চালিয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের আহ্বান জানাচ্ছি।’
ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে ওই বিনিয়োগকারী সংস্থা মারিকারমেনকে পুনরায় ফ্ল্যাটে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে মাদ্রিদ ভাড়াটিয়া ইউনিয়ন জানিয়েছে, এই সমাধান খুব দেরিতে এসেছে। সংস্থাটির সঙ্গে নতুন চুক্তিতে সই করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মারিকারমেনের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতোমধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। তার সরকার আবাসন সংকট নিরসনে দুটি জরুরি ডিক্রি জারি করতে চাইলেও বিরোধী রক্ষণশীল ও ডানপন্থীদের বিরোধিতায় তা পার্লামেন্টে আটকে যায়।
মারিকারমেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এবং বিরোধীদলীয় নেতারা। বামপন্থী দল পোদেমোস-এর নেত্রী আইরিন মন্টেরো ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে নিছক মৃত্যু নয় বরং কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদ্রিদের প্রতিবাদ শিবির থেকে শত শত মানুষ পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেন এবং আবাসন অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
