রাকিবকে হত্যার পর কার্টনে ভরে নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পুঁতে রাখে মামুন

ফন্ট সাইজ:

মো. রাকিবুল ইসলাম (১৭)। এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকায় এসে ভর্তি হন ফার্মগেটের ফোকাস কোচিংয়ে। ঢাকায় নতুন বন্ধুত্ব হয় নীলফামারীর আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারের (২৪) সঙ্গে। শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশন, সংসদ ভবনের খেজুর বাগান এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখাও করেন তারা। তবে এই বন্ধুত্বের আড়ালে থাকা ঘাতকই অপহরণ করে টাকার জন্য ঘাড় মটকে হত্যা করে রাকিবকে। এরপর লাশ গুম করতে কাগজের কার্টনে ভরে গ্রামের বাড়ি ডিমলায় নিয়ে সুপারি বাগানে দাফন করে মামুন। গতকাল রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম।

মহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত রাকিব রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই নিখোঁজ। কেউ কোথাও তার খোঁজ পাচ্ছিল না। এরপর রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। রাকিবের বাসায় গিয়ে জহুরুল জানতে পারেন- কেউ ফোন করে রাকিবকে বাইরে ডেকে নিয়ে গেছে। রাকিব নিজেই বাসা থেকে বের হয়েছে। এরই মধ্যে জহুরুলের কাছে বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলা হয়- আপনার ভাই রাকিব অপহরণ হয়েছে, তাকে পেতে হলে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। একপর্যায়ে ভাইকে ফিরে পেতে ৪টি বিকাশ ও ৩টি নগদ নম্বরে মুক্তিপণ হিসাবে মোট ৪ লাখ টাকা দেয় জহুরুল।

তবে বাস্তবায়িত ছিল ভিন্ন। মুক্তিপণের টাকা নেয়ার অনেক আগেই রাকিবকে হত্যা করে মামুন। যুগ্ম কমিশনার বলেন, গত ১৬ই সেপ্টেম্বর বিকালে রাকিবকে কল করে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে আসতে বলে মামুন। সেখান থেকে তারা দু’জনেই চলে যান মামুনের বাসায় শুক্রাবাদে। বাসার রুমে প্রবেশের পরই রাকিবকে আটকে ফেলে মামুন। বিষয়টি টের পেলে মামুনের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে রাকিব। একপর্যায়ে রাকিবের ঘাড় মটকে দেয় মামুন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাকিবের। এরপর ঠাণ্ডা মাথায় রাকিবের গায়ের সকল জামা-কাপড় খুলে সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয় মামুন। আর রাকিবের লাশ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে একটি কাগজের কার্টুনে প্যাকিং করে ফেলে মামুন।

পরদিন রাত সাড়ে দশটার দিকে তার বাসার দারোয়ান শানুকে বলে কল্যাণপুরে যাওয়ার জন্য একটি রিকশা ডেকে দিতে, সে মাল নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবে। এরপর দুইশ’ টাকা ভাড়া ঠিক করে ওই অটোরিকশায় রাকিবের লাশ প্যাকেট করা কার্টন নিয়ে কল্যাণপুর থেকে ঝুমা নামে একটি দূরপাল্লার বাসে ওঠে নীলফামারীর ডিমলায় চলে যান মামুন। সেখানে তার বাড়ির সামনের সুপারি বাসানের ভেতরে মাটি গর্ত করে ওই কার্টুনসহই রাকিবের লাশ পুঁতে রাখে মামুন। এই ঘটনায় দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও তদন্তে মুক্তিপণ দাবি করে ফোন করা দু’টি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৫ই অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। সে সব দোষ স্বীকার করে আদলতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। একই সঙ্গে গত মঙ্গলবার বিকালে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টুনে ভর্তি অবস্থায় রাকিবের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার বড় ভাই জীবন লাশটি শনাক্ত করেন। এই ঘটনায় আলাদা মামলাও দায়ের করেছেন তিনি।