‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ-২০২৬’

ঢাকায় প্রতি বছর স্থায়ী হচ্ছে ৫ লাখের বেশি মানুষ, বাড়ছে চাপ

ফন্ট সাইজ:

প্রতি বছর ঢাকায় ৫ লাখের বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়ায় মানুষের ঢাকামুখী প্রবণতা থামানো যাচ্ছে না। এতে বাড়ছে আবাসন সংকট, বস্তি, যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে অন্যান্য শহরে পরিকল্পিত নগরায়ণ, অঞ্চলভিত্তিক আবাসন ও কর্মসংস্থান ছড়িয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, স্মার্ট নগর মানে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ভবন বা আধুনিক অবকাঠামো নয়; এর সঙ্গে সাশ্রয়ী আবাসন, পরিবহন, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ও যুক্ত।
গতকাল রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ-২০২৬’-এ এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ নিয়ে আয়োজিত কনক্লেভটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, নগর উন্নয়নের জন্য আরবান ডেভেলপমেন্ট ডাইরেক্টরেটের মাধ্যমে প্রায় ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথমে মেট্রোপলিটন শহর, এরপর বড় শহর ও পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। সঠিক পরিকল্পনার জন্য নির্ভুল তথ্য প্রয়োজন। এজন্য নতুন করে সঠিক জনশুমারি করা দরকার। ভবন অনুমোদনের ক্ষেত্রেও স্থাপত্য, কাঠামো ও বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা সমন্বিতভাবে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, গুলশান-বনানীর ৪ হাজার ৩০০ বাড়িঘরের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল করা হয়নি। গুলশান-বারিধারা আমাদের ডিস্টিংগুইশড এরিয়া। এখানকার লেক ও পাড় ঠিক করতে না পারলে সারা বাংলাদেশ কীভাবে ঠিক করা হবে?
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঢাকার প্রকৃত জনসংখ্যা কতো, তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই। কেউ দুই কোটি, কেউ তিন কোটি মানুষের কথা বলেন। পরিকল্পনা করতে হলে আগে জানতে হবে, রাজধানীতে কতো মানুষকে রাখা সম্ভব।
জিএমইএবি সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস বলেন, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে নগরায়ণকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। অন্যান্য শহরে মনোযোগ বাড়াতে পারলে রাজধানীর জনসংখ্যার চাপও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, স্মার্ট আবাসন শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাসস্থান, পরিবহন, সুপেয় পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জননিরাপত্তার সমন্বয়েই স্মার্ট নগর গড়ে তুলতে হবে।
ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিমুল বাতেন সরকারি জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আবাসন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সরকারি সংস্থাগুলোর হাতে থাকা জমি ডেভেলপারদের দেয়া হলে বিনিময়ে সরকার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ ছাড়াই বিপুল আবাসন তৈরি করা সম্ভব।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য এক নয়। তাই সব অঞ্চলের জন্য একই ধরনের নগর পরিকল্পনা করা যাবে না। উত্তরাঞ্চলে খরা ও পানির সংকট এবং দক্ষিণাঞ্চলে ঝড়, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বিবেচনায় নিয়ে আবাসন পরিকল্পনা করতে হবে।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ভবনের নিরাপত্তার জন্য সঠিক নকশার পাশাপাশি নির্মাণকালীন তদারকি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ভালো বিল্ডিং কোড থাকলেও নির্মাণকাজ নির্ধারিত মান অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা এখনো নেই।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেনÑ ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বিএসএমএ সভাপতি ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, স্পেস জিরো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি ফয়েজ উল্লাহ, এবিসি রিয়েল এস্টেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রাবন্তী দত্ত প্রমুখ।