নানা আয়োজনে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নির্মম নির্যাতনে নিহত বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদকে স্মরণ করেছেন বিভিন্ন সংগঠনসহ শিক্ষার্থীরা। বুধবার ছিল আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে হয়েছে আলোচনা সভা, চিত্রপ্রদর্শনী ও স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন। বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নিচতলায় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি: আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য; এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি বলেন, প্রতারণার কোনো আশ্রয় না নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নিজে মার খেয়েছে, রক্তাক্ত হয়েছে। সেই রক্তাক্ত অবস্থা নিয়েও নিজের অস্তিত্ব নিয়ে তারা কাজ করেছে এবং সংগ্রাম করে গেছে। ’২৪-এর আন্দোলন, ’২২-এর আন্দোলন, ’২৩-এর আন্দোলনে আমরা তাদের ঝুঁকি নিতে দেখেছি। জনগণ ঠিকই রায় দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে।
এদিকে একইদিনে দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে ডাকসু’র উদ্যোগে ‘আর্তনাদ’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়। শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন ডাকসু’র ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির নিপীড়নের স্মারক হিসাবে এটি নির্মিত। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ডাকসু’র জিএস এস এম ফরহাদ, ‘আর্তনাদ’ নামকরণ করেন এজিএস মহিউদ্দিন খান, নকশা করেন স্থপতি নাজমুল ও তার দল এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার। এ সময় আবরারের বাবা বলেন, এটি সেই সব শিক্ষার্থীর স্মৃতি বহন করবে, যারা রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ডাকসু’র ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, গণরুম-গেস্টরুমের অপসংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন চালানো হতো। সেই কষ্ট, ভয় ও আর্তনাদকে স্মরণে রাখতেই ‘আর্তনাদ’ নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিন আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের সঙ্গে কোনো বৈরিতা আমাদের প্রত্যাশা নয়। কিন্তু আমাদের স্বার্থ সুরক্ষা হচ্ছে কি না, সেটাই প্রশ্ন। গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ গত ৫০ বছরেও পায়নি। ফারাক্কা ব্যারাজ বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করার হাতিয়ার।
তিনি বলেন, এ বছর ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আবরার ফাহাদ যেটা চেয়েছিল, সেটা বাস্তবায়নের সময় এখন এসেছে। চুক্তি শুধু নবায়ন করলেই হবে না, নতুন করে স্বাক্ষরিত করতে হবে। বন্ধুত্ব চাইলে গঙ্গা, তিস্তাসহ সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। আবরার ফাহাদ আমাদের কাছে জাতীয় মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আবরার হাসিনা বা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু লেখেনি, লিখেছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। এজন্য তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আবরার ফাহাদের বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। আলোচনায় এনসিপি’র সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতসহ আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ওদিকে সকাল ৯টা থেকে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘ক্ষতচিহ্নের ক্যানভাস: নির্যাতনের ক্যাম্পাস’ শীর্ষক চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাবি শাখা সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান। প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
সাদ্দাম বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারত একইসূত্রে গাঁথা। ক্যাম্পাসগুলোকে জাহান্নাম বানিয়ে রেখেছিল ছাত্রলীগ, বর্তমান সরকার ও তাদের ছাত্রসংগঠন আওয়ামীদের জেরক্স কপিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের কথাগুলো আমাদের সকলের কথা। সেই স্ফূলিঙ্গ বিশাল আকার ধারণ করে ৫ বছর পরে হাসিনার মসনদ কাঁপিয়ে তাকে দিল্লিতে পাঠিয়ে দিলো। সমালোচনা মানেই শত্রুতা নয়, এটি ক্ষমতাসীনদের বোঝা উচিত।
নানা আয়োজনে আবরার ফাহাদকে স্মরণ
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
